হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনে রুশ হামলা, কিয়েভের তীব্র নিন্দা
ইউক্রেনের শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ ব্যাপক হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে মস্কো। শনিবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত চালানো এই অভিযানে ইউক্রেনের সামরিক ও জ্বালানি সংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। রাশিয়ার দাবি, দেশটির ভেতরে বেসামরিক স্থাপনায় ইউক্রেনীয় হামলার জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কিনজাল’ শ্রেণির হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে “বৃহৎ পরিসরের” আঘাত হানা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাতের হামলায় দেশজুড়ে ১০টির বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে সাতটি অঞ্চলে হাজারো মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, এই হামলা যুদ্ধ বন্ধের কোনো ইঙ্গিত নয়; বরং রাশিয়া ইউক্রেনকে ধ্বংস করা এবং জনগণের ওপর সর্বোচ্চ কষ্ট চাপিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে।
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চল ও জ্বালানি খাত ছিল হামলার প্রধান লক্ষ্য। শুধু শুক্রবার রাতেই ওডেসা অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ৪৫০টির বেশি ড্রোন এবং প্রায় ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলায় অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন এবং দেশজুড়ে ১২টির বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ পুনরুদ্ধারে জরুরি পরিষেবাগুলো কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার এবং সামরিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান, যাতে প্রাণহানি কমানো যায় এবং যুদ্ধের অবসান সম্ভব হয়।
এদিকে দক্ষিণ ইউক্রেনের উপকূলীয় শহর ওডেসা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, বিদ্যুৎ গ্রিডে রাতভর হামলার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া নিয়মিতভাবে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে আসছে, যার ফলে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সংকট দেখ দিচ্ছে।
ছবি: আল জাজিরা