গত ৫০ বছরের মধ্যে সেরা হজ মৌসুম ঘোষণা সৌদি আরবের — ৫০% পবিত্র স্থান প্রস্তুত, নতুন ঐতিহাসিক উদ্যোগ উদ্বোধন
সৌদি আরব সরকার ঘোষণা করেছে যে গত বছরের হজ মৌসুম ছিল গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে সফল ও সুশৃঙ্খল। দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী ড. তৌফিক আল-রাবিয়াহ জানিয়েছেন, ১৪৪৬ হিজরির হজ মৌসুমে হাজিদের সন্তুষ্টির হার বেড়ে ৯১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালে ছিল ৭৪ শতাংশ।
রবিবার জেদ্দার ‘সুপার ডোম’ হলে শুরু হয় পঞ্চম হজ সম্মেলন ও প্রদর্শনী— “মক্কা থেকে বিশ্বে” শীর্ষক এই আয়োজনে দেশি–বিদেশি শতাধিক বিশেষজ্ঞ, গবেষক, ইতিহাসবিদ ও প্রযুক্তি উদ্ভাবক অংশ নেন। উদ্বোধন করেন মক্কা প্রদেশের উপরাজকুমার প্রিন্স সৌদ বিন মিশআল বিন আব্দুল আজিজ, যিনি খুতবা পাঠ করেন বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজের পক্ষে।
ব্যাপক উন্নয়ন ও প্রস্তুতি
মন্ত্রী আল-রাবিয়াহ জানান, হজ শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী বছরের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশ ‘মাশায়ের মুকাদ্দাসাহ’ (পবিত্র স্থানসমূহ) আধুনিকায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা আগামী জিলকদ মাসের শুরুতেই পুরোপুরি প্রস্তুত হবে। এছাড়া ৭০ শতাংশ হোটেল ও আবাসন সুবিধা সংস্কার করা হয়েছে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায়।
তাঁর ভাষায়, “এই মৌসুমে সব সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে হাজিদের জন্য অভিজ্ঞতা ছিল স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নিরাপদ।”
ঐতিহাসিক উদ্যোগ ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ
সম্মেলনে প্রিন্স ফয়সাল বিন সালমান, বাদশাহর উপদেষ্টা ও কিং আবদুল আজিজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, ঘোষণা করেন নতুন প্রকল্প ‘হজ ও হারামাইন শরিফাইনের ইতিহাস বিষয়ক ফোরাম’। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ইসলাম-পূর্ব যুগ থেকে সৌদি শাসনামল পর্যন্ত হজের ইতিহাস, উন্নয়ন ও সংস্কারের ধারাবাহিকতা বৈজ্ঞানিকভাবে সংরক্ষণ করা।
প্রিন্স ফয়সাল বলেন, “হজ শুধুমাত্র একটি ইবাদত নয়, এটি এক অনন্ত বিশ্বাসযাত্রা— যা যুগে যুগে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও মর্যাদার প্রতীক হয়ে এসেছে। সৌদি রাষ্ট্রের প্রথম যুগ থেকেই এই পবিত্র দায়িত্ব জাতীয় ও ধর্মীয় অঙ্গীকার হিসেবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে লালিত হয়েছে।”
প্রযুক্তি ও সেবার অগ্রগতি
মন্ত্রী আরও জানান, হজ সেবায় “নুসুক” অ্যাপের ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিশ্বব্যাপী ৪ কোটিরও বেশি, এবং এতে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক নতুন ফিচার “Nusuk AI”।
এছাড়া মক্কা ও মদিনায় ৭১টি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থান উন্নয়ন করা হয়েছে, যা তিন মিলিয়নেরও বেশি দর্শনার্থী পরিদর্শন করেছেন এবং তাঁদের সন্তুষ্টির হার ছিল ৯৫ শতাংশেরও বেশি।
অতুলনীয় আয়োজন ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ
এই বছর হজ সম্মেলনটি আয়োজন করেছে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়, “দুই পবিত্র মসজিদের অতিথি সেবা কর্মসূচি”-এর সহযোগিতায়, এবং এতে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হজ অফিস প্রতিনিধি, গবেষক, সরকারি কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা।
তিনদিনব্যাপী এই সম্মেলনে ১০টিরও বেশি বিশেষ আলোচনা সভা ও প্যানেল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে হজ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, ইতিহাস ও স্থাপত্য বিষয়ে আধুনিক সমাধান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হবে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের মতে, গত বছরের সফল হজ আয়োজন এবং চলমান সংস্কার প্রকল্পগুলো আধুনিক যুগে হজ ব্যবস্থাপনার এক নতুন মডেল তৈরি করেছে, যা বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য “এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ” হয়ে থাকবে।