সৌদি যুবরাজ ও ফরাসি প্রেসিডেন্টের আলোচনা: ফিলিস্তিন প্রশ্নে ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’ অগ্রাধিকার
রিয়াদ, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (শনিবার) – সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ টেলিফোনে আলাপ করে ফিলিস্তিন সংকট সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফলাফল নিয়ে আলোচনা করেছেন। সম্মেলনে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু নিষ্পত্তি ও ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’ বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হয়।
আলাপচারিতায় দুই নেতা আগামী ২২ সেপ্টেম্বর শীর্ষ পর্যায়ে পুনরায় বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেন। আলোচনায় গাজা যুদ্ধের অবসান ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার বিষয়টি উঠে আসে।
মোহাম্মদ বিন সালমান ও ম্যাক্রোঁ উভয়েই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত ‘নিউইয়র্ক ঘোষণা’-কে স্বাগত জানান, যা বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় গৃহীত হয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, অনেক দেশ এখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী ঐকমত্যের প্রতিফলন।
সৌদি আরবের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান জানান, ফিলিস্তিন প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। তিনি বলেন, “মানবিক কষ্ট লাঘব ও সহিংসতার চক্র ভাঙতে সৌদি আরব সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি সম্ভব।”
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সৌদি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রিন্স ফয়সাল। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সৌদি যুক্তরাষ্ট্র-স্থায়ী রাষ্ট্রদূত প্রিন্সেস রিমা বিনতে বান্দর, জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত আদেল আল জুবেইরসহ একাধিক মন্ত্রী ও কূটনীতিক।
ফ্রান্সের পদক্ষেপ
আগামী সোমবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা করবেন। ফরাসি কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, পূর্বে যে দেশগুলো বলেছিল তারা কেবল শেষ পর্যায়ে স্বীকৃতি দেবে, তারাও এখন মাঝপথেই এ সিদ্ধান্তে যোগ দিচ্ছে।
বৈশ্বিক সমর্থন বৃদ্ধি
গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বিপুল ভোটে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আরও বহু দেশ শীঘ্রই স্বীকৃতি দেবে।
এ বছর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ১৪০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান যোগ দিচ্ছেন। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ফিলিস্তিন সংকট ও গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়, পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ, সুদান পরিস্থিতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যাল।