ইসরায়েলের ‘সেদি তিমান’ কারাগার: জীবন্ত কবরের মতো বন্দিশালা, জানালেন মুক্তিপ্রাপ্ত দুই ফিলিস্তিনি
ইসরায়েলের দক্ষিণ নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত সামরিক কারাগার ‘সেদি তিমান’ নিয়ে ভয়াবহ অভিযোগ তুলেছেন মুক্তিপ্রাপ্ত দুই ফিলিস্তিনি বন্দি। তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে পদ্ধতিগত নির্যাতন, নিপীড়ন, ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের চিত্র।
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক শাদি আবু সিদো জানান, ২০২৪ সালের মার্চে গাজা শহরে সংবাদ কাভার করতে গিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বলেন, “আমাকে নগ্ন করে হাত পিছনে বেঁধে বৃষ্টির মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেলে রাখা হয়েছিল।” পরে তাঁকে ‘সেদি তিমান’-এর সামরিক ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে প্রবেশের সময়ই তাঁকে প্রায় ৩০ জন সৈন্য নির্মমভাবে মারধর করে।
তিনি জানান, “একটি ঘরে সারাদিন উচ্চ শব্দ, চিৎকার, আর সংগীত বাজিয়ে বন্দিদের ঘুমাতে দেওয়া হতো না। আমাদের শরীরে আঘাত করা হতো, হাতে ঝুলিয়ে রাখা হতো।”
অন্য এক প্রাক্তন বন্দি মাহমুদ আবু ফুল, যিনি আগেই এক পা হারিয়েছিলেন, বলেন যে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁকে গ্রেফতার করে একই কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে মাথায় আঘাতের ফলে তিনি দৃষ্টি হারান। “অন্ধ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত কেউ চিকিৎসা দেয়নি,” বলেন তিনি।
মানবাধিকার সংস্থাগুলির রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ‘সেদি তিমান’–এ বন্দিদের ঘুম, খাদ্য, ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রাখা হয় এবং যৌন নির্যাতন ও শারীরিক নিপীড়ন দৈনন্দিন ঘটনা। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলে বর্তমানে ১০,০০০-এরও বেশি বন্দি রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে প্রায় দুই হাজার গাজা থেকে আটক।