বাংলায় মুসলমানদের অবদান ও ঐতিহাসিক গতিধারা নিয়ে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার
বঙ্গদর্পণ :
সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড এক্সিলেন্স (CRE)-এর উদ্যোগে আয়োজিত দুইদিনব্যাপী ইতিহাস সম্মেলনের প্রথম দিনে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক সার্কাস ক্যাম্পাসে “বাংলায় মুসলমানদের অবদান ও তার ঐতিহাসিক গতিধারার উন্নয়ন” শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
এই সেমিনারে ইতিহাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষক, শিক্ষক, অধ্যাপক এবং ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপকগণ বিভিন্ন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন এবং উপস্থাপিত গবেষণাপত্রগুলোর উপর গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারের প্রধান অতিথি ও মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক অমিত দে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের আশুতোষ (চেয়ার) অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলায় মুসলমানদের উপস্থিতি কেবল রাজনৈতিক ইতিহাসে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রশাসনিক কাঠামো, শিক্ষা ব্যবস্থা, সাহিত্য, স্থাপত্য এবং সামাজিক বিন্যাসে তাঁদের অবদান গভীর ও সুদূরপ্রসারী। তিনি আরও বলেন, ইতিহাসচর্চায় এই অবদানগুলিকে নিরপেক্ষ ও গবেষণাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন করা একান্ত প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মসিহুর রহমান, চেয়ারম্যান, ওয়েস্ট বেঙ্গল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে ইতিহাসকে শুধুমাত্র অতীতের ঘটনাবলীর ধারাবিবরণী হিসেবে নয়, বর্তমান সমাজ নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখা উচিত। বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতি গঠনে মুসলমানদের ভূমিকা একটি উজ্জ্বল অধ্যায়, যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা অপরিহার্য।
সেমিনারে আরও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. এম. সাজ্জাদ আলম রিজভী, সহকারী অধ্যাপক, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা এবং অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক হুসাইন, সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইতিহাস বিভাগ, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
সেমিনারে গবেষক, শিক্ষক, অধ্যাপক, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত শ্রোতারা আলোচ্য বিষয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত ও প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড এক্সিলেন্স-এর ডিরেক্টর মসিউর রহমান সকল অতিথি, বক্তা ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের গবেষণাভিত্তিক ইতিহাসচর্চা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সমগ্র সেমিনারটি পরিচালনা করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও ইতিহাস সামিটের আহ্বায়ক সাঈদ বিএস আল মামুন।