লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লা সংঘাতের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি, নিহত ৫ হাজারের বেশি, ক্ষতি ১৪ বিলিয়ন ডলার
নিজস্ব সংবাদদাতা, বৈরুত -লেবাননে চলমান ইসরায়েল-হিজবুল্লা যুদ্ধ থেমে গেলেও ক্ষয়ক্ষতির হিসেব ক্রমশ বাড়ছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজাকে ঘিরে হিজবুল্লার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া পর্যন্ত মারা গিয়েছেন অন্তত ৪,০৪৭ জন। এর পরে চলমান ইসরায়েলি হামলা ও গোলাবর্ষণে আরও ২৭০ জন নিহত হন। ফলে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। আহতের সংখ্যা অন্তত ১৬ হাজার ৬৩৮ জন।
১৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি
লেবাননের সংস্কৃতি মন্ত্রী গাসান সালামে জানিয়েছেন, যুদ্ধে অবকাঠামো ও সম্পত্তির ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলারে। বিশ্বব্যাংকের হিসেবও প্রায় একই। এর মধ্যে শুধু আবাসিক ভবনের ক্ষতি প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতি যোগ করলে মোট পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১১.২ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য খাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত
যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ লক্ষ মানুষ বাড়িঘর হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবান, বেকা উপত্যকা ও বৈরুতের উপকণ্ঠের বহু এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ ফিরতে পেরেছেন।
বন্দি ও নিখোঁজদের সংকট
লেবাননের "আটক ও মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের কমিটি" জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে ১৯ জনকে বন্দি অবস্থায় পাওয়া গেছে, যার মধ্যে মাত্র ৬ জন হিজবুল্লার সদস্য। বাকিরা সাধারণ মানুষ। অপরদিকে হিজবুল্লার ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করছে, আরও অন্তত ৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের ভাগ্য অনিশ্চিত।
যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ
লেবাননের সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও অন্তত ৪,৫০০ বার আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে লঙ্ঘন করেছে। সীমান্ত গ্রামগুলোতে এখনো গোলা বর্ষণ, আগুন লাগানো ও ঘরবাড়ি ধ্বংসের ঘটনা ঘটছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
লেবানন সরকার বলছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে ও পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ ও সহায়তা প্রয়োজন। তবে সেই সহায়তার শর্ত হিসেবে আন্তর্জাতিক মহল লেবাননের ভূখণ্ডে কেবল রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে অস্ত্র রাখার দাবি তুলেছে।