এশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস: ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা ১১০০ ছাড়াল
টানা বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধসের ফলে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রাণহানি বেড়ে ১১০০–র বেশি হয়েছে। সোমবার ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে শ্রীলঙ্কার পুরো দ্বীপজুড়ে, ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে, দক্ষিণ থাইল্যান্ড এবং উত্তর মালয়েশিয়ায় প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, তারা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল পাঠাচ্ছে এবং জরুরি সরঞ্জাম সরবরাহ করছে। সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাবের আরেকটি উদাহরণ।
বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বহু মানুষ ঘরের ছাদে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন; নৌকা ও হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হচ্ছে তাদের। “ফ্রান্স প্রেস” জানিয়েছে, বহু গ্রাম এখনো বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায় মৃত কমপক্ষে ৫৯৩, নিখোঁজ ৪৬৮
উত্তর সুমাত্রায় গিয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো জানান, “আমরা আশা করছি সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি পেরিয়ে গেছি।”
সরকারের অগ্রাধিকার এখন দ্রুত ত্রাণ পাঠানো, বিশেষ করে বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, দেশটিতে বন্যা–ধসে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৫৯৩ জনের; নিখোঁজ রয়েছেন ৪৬৮ জন। তিনটি প্রদেশ থেকে ৫ লাখ ৭৮ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এটি ২০১৮ সালের ভূমিকম্প–সুনামির পরে ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
সরকার তিনটি যুদ্ধজাহাজ এবং দুটি ভাসমান হাসপাতাল পাঠিয়েছে, কারণ বহু রাস্তায় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
শ্রীলঙ্কায় মৃত্যুসংখ্যা ৩৬৬, নিখোঁজ ৩৬৭
শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটোয়াহ’–এর প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধস ও বন্যায় অন্তত ৩৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩৬৭ জন। সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে এবং সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার উদ্ধারকাজে যুক্ত হয়েছে।
রাতে নদী ও খালের পানি সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছালেও বৃষ্টি কমায় পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। কিছু দোকানপাট ও অফিস পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দিসানায়েকে জরুরি অবস্থা জারি করে বলেন, “এটি আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও কঠিন প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আমরা দেশকে আগের চেয়ে আরও ভালোভাবে পুনর্গঠন করব।”
২০০৪ সালের সুনামির পর এটিই শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়।
থাইল্যান্ডে মৃত ১৭৬
দক্ষিণ থাইল্যান্ডে বন্যায় অন্তত ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত দশ বছরে এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হিসেবে বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। সরকারের ত্রাণ ব্যবস্থাপনা দুর্বল হওয়ায় সমালোচনা উঠেছে; দু’জন স্থানীয় কর্মকর্তাকে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে
এশিয়ার বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি স্বাভাবিক হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাত এখন আরও তীব্র ও ঘন হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার বন্যা একটি বিরল উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড়ের কারণে আরও ভয়াবহ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ঝড়কে শক্তিশালী করছে, তাদের ঘন ঘন ঘটাচ্ছে এবং বৃষ্টিপাতকে আরও তীব্র করছে—ফলে বন্যা ও ভূমিধস দ্রুত এবং ব্যাপকভাবে সৃষ্টি হচ্ছে।