উত্তর ইরানের ভয়াবহ দাবানল: বনাঞ্চলে প্রবেশে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি
ইরানের উত্তরাঞ্চলের ঐতিহাসিক হিরকানি বনাঞ্চলে চলমান ভয়াবহ দাবানলের জেরে বনাঞ্চলে প্রবেশে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বুধবার স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, আগুন নেভাতে হিমশিম খাচ্ছে ইরান, আর তাই নতুন করে বনভূমিতে মানুষের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে।
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে উত্তর ইরানে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড দেখা দেয়। কয়েকদিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ১৫ নভেম্বর প্রবল বাতাস ও অস্বাভাবিক শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দাবানল আবারও ভয়াবহ রূপ নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২২ নভেম্বর বিদেশি সহায়তা চেয়েছে ইরান। প্রায় ১,০০০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত হিরকানি বন, যাদের বয়স ২৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন বছর বলে ধারণা করা হয়, জৈববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত—এখানে রয়েছে ৩২০০–রও বেশি উদ্ভিদ প্রজাতি।
ইরানের বন রক্ষী ইউনিটের প্রধান মজিদ জাকারিয়াই বলেন,
“শরৎকালীন বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত পার্ক ও সংরক্ষিত এলাকার বাইরে সব বনাঞ্চলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে নতুন অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি না বাড়ে।”
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, আগুনের বড় অংশ মঙ্গলবার নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নেভানোর কাজ এখনো চলছে।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনীম দাবি করেছে, আগুনের উৎস ‘মানবসৃষ্ট’। ধারণা করা হচ্ছে, উত্তরাঞ্চলের মাজানদারান প্রদেশে শিলা-পাহাড়ি এলাকায় কিছু শিকারি অসাবধানতাবশত আগুন লাগিয়ে ফেলেছিল।
ইরান বর্তমানে ছয় দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে দাবানল আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
উত্তরের গোলেস্তান প্রদেশের এক কর্মকর্তা জানান, “নানা প্রচেষ্টার ফলে আগুনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হয়েছে”, যদিও পাশের সেমনান প্রদেশেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পরিবেশ দপ্তর।
তবে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা কতটুকু বনভূমি পুড়েছে—তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি সরকার।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম “ফারারো” জানিয়েছে, হিরকানি বন এখন ‘বারুদভর্তি পিপে’র মতো বিপদে রয়েছে। দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটক সমাগমের কারণে অদূরদর্শী আচরণ আরও নতুন দাবানলের ঝুঁকি তৈরি করছে।
কাস্পিয়ান সাগরঘেঁষা উত্তর ইরানের এলাকা রাজধানী তেহরানের বাসিন্দাদের প্রিয় ভ্রমণস্থল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
২০১৯ সালে ইউনেসকো হিরকানি বনাঞ্চলকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। সংস্থাটির মতে, এই বন বিশ্বের বহু বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ ও প্রাণীর শেষ আশ্রয়স্থলগুলোর একটি।