নীরব দাফনে শহীদ তুর্কিস্তানি আলেম শায়খ আব্দুল আহাদ মাখদুম
চীনা কারাগারে মৃত্যু হলো তুর্কিস্তানের খ্যাতনামা আলেম ও দা'য়ী শায়খ আব্দুল আহাদ মাখদুমের (রহঃ)। তাঁকে জানাজা ছাড়াই নীরবে দাফন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তাঁর শাহাদাতের খবর ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে, আর কোটি কোটি মুসলমান তাঁর জন্য দোয়া করেছেন।
শায়খ আব্দুল আহাদ মাখদুম পূর্ব তুর্কিস্তানের এক বিশিষ্ট ইসলামী দা'য়ী ও শিক্ষাবিদ ছিলেন। দীর্ঘ জীবনে তিনি ইসলামের দাওয়াত ও শিক্ষার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন। চীনা কর্তৃপক্ষ তাঁর প্রচার ও শিক্ষা কার্যক্রম রুখতে তাঁকে পাঁচবার গ্রেপ্তার করে।
প্রথমবার ইসলামী শরীয়ত শিক্ষা দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জেল থেকে বেরিয়ে এসে তিনি গোপনে ইসলামি শিক্ষা প্রদান অব্যাহত রাখেন। শত শত শিক্ষার্থী তাঁর কাছ থেকে ইসলামী জ্ঞান অর্জন করেন।
দ্বিতীয়বার তাঁকে এক বছরের জন্য বন্দি করা হয়। তৃতীয়বার ২০০১ সালে গ্রেপ্তারের পর মুক্তি পেলেও গৃহবন্দী রাখা হয় এবং ইমামতি ও বক্তব্য প্রদানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। চতুর্থবার ২০০৪ সালে তাঁকে আবারও গ্রেপ্তার করে ১৫ বছরের সাজা দেওয়া হয়। পরে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মুক্তি পেলেও ১১ বছর গৃহবন্দী অবস্থায় ছিলেন।
পঞ্চম ও শেষবার ২০১৭ সালের নভেম্বরে পরিবারসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়।
২০১৮ সালের ২৭ মে চীনা কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুর খবর স্বীকার করে। তবে জানানো হয়, তাঁর মৃত্যু কয়েক মাস আগেই, সম্ভবত ২০১৭ সালের নভেম্বরে হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলার মাধ্যমে তাঁকে ধীরে ধীরে হত্যা করা হয়েছে।
শায়খ আব্দুল আহাদ মাখদুম (জন্ম ১৯৩০) উইঘুর তুর্কি জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্গত একজন তুর্কিস্তানি সুন্নি আলেম ছিলেন। তিনি হানাফি ফিকহ মেনে চলতেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
উইঘুর মুসলমানদের ইসলামি পরিচয় রক্ষা এবং সমাজ সংস্কারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দ্বীনের সেবা করে যাওয়া এই আলেমকে আজ সারা বিশ্বের মুসলমানরা শহীদ হিসেবে স্মরণ করছেন।
আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।