Tranding

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক প্রোটিনসমৃদ্ধ ছয়টি খাবার

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রোটিন কার্বোহাইড্রেটের তুলনায় ধীরে হজম হয়, ফলে রক্তে গ্লুকোজের হঠাৎ বৃদ্ধি কমে যায়। এতে ডায়াবেটিস ও প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য উপকার হতে পারে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা সূত্র অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।

১. সামুদ্রিক মাছ ও সি-ফুড

মাছ ও সামুদ্রিক খাবার উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সপ্তাহে অন্তত দুইবার মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

২. মুরগি ও টার্কির মাংস

চর্বি ও কার্বোহাইড্রেট কম থাকা মুরগি ও টার্কির মতো পোলট্রি খাবার রক্তে গ্লুকোজ শোষণ ধীর করে, ফলে হঠাৎ শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। এগুলো দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, যা অতিরিক্ত খাওয়া রোধে সাহায্য করে।

৩. ডিম

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়া উপবাসকালীন রক্তে শর্করা কমাতে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। ডিমভিত্তিক খাদ্যতালিকা প্রিডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখে।

৪. বাদাম

বাদামে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও আঁশ, কিন্তু কার্বোহাইড্রেট কম। অল্প পরিমাণ বাদাম খেলে ক্ষুধা কমে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এতে থাকা অসম্পৃক্ত চর্বি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৫. মসুর ডাল

মসুর ডাল উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও আঁশে ভরপুর। এর গ্লাইসেমিক সূচক কম হওয়ায় এটি ধীরে ধীরে রক্তে গ্লুকোজ বাড়ায়। নিয়মিত রান্না করা ডাল খেলে উপবাসকালীন রক্তে শর্করা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

৬. টোফু

সয়াবিন থেকে তৈরি টোফু একটি জনপ্রিয় উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। এটি কম চর্বিযুক্ত এবং কোলেস্টেরলমুক্ত, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে এবং রক্তে শর্করা ও ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

কীভাবে প্রোটিন রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রোটিন ধীরে হজম হওয়ায় পাকস্থলী খালি হতে সময় লাগে এবং এতে গ্লুকোজ ধীরে রক্তে প্রবেশ করে। পাশাপাশি প্রোটিনে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড কার্বোহাইড্রেট থেকে শর্করা শোষণের গতি কমায়। এতে রক্তে শর্করার হঠাৎ ওঠানামা রোধ হয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূত হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুষম খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন যুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.