সোনম ওয়াংচুককে এনএসএর অধীনে গ্রেপ্তার: লাদাখে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত
আমিন ইবনে মোজাফফার : যাঁর চরিত্রের ওপর চিত্রিত প্রখ্যাত বলিউড সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়েটস্’, সেই বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুক-কে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএ) অধীনে গ্রেপ্তার করলো কেন্দ্র সরকার। কী তাঁর অন্যায়? তাঁর একমাত্র অন্যায় তিনি লাদাখের আম জনতার স্বার্থে, পরিবেশ রক্ষার্থে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। লাদাখের মাটির তলায় প্রাপ্ত বহুমূল্য লিথিয়াম আদানির হাতে তুলে দিতে লাদাখের পরিবেশ ধ্বংস করে যে খুনে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কেন্দ্র সরকার, তার বিরোধীতা করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। সবচেয়ে দুঃখজনক এবং আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, গণতন্ত্র প্রিয় শান্তিবাদী সোনম ওয়াংচুক বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের কাছে বিপদজ্জনক হয়ে দাঁড়াচ্ছেন।
কেন্দ্র সরকার ২০১৯ সালে সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছিলো তারা জম্মু ও কাশ্মীরে শান্তি ফিরিয়ে এনেছে। একই উদ্দেশ্যে তারা জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের জন্ম দিয়েছিল — জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ। কিন্তু বারংবার প্রমাণিত হয়েছে মুখে ‘শান্তি ফেরানো’-র কথা বললেও জাতীয়তাবাদের ধুঁয়ো তুললেও কেন্দ্র সরকারের আসল লক্ষ্য ছিল এই অঞ্চলকে কর্পোরেট পুঁজির হাতে তুলে দেওয়া। তাই দিনের পর দিন এই অঞ্চলে বেড়েছে সরকারি নীপিড়ন।
বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুক লাদাখের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবির পাশাপাশি লাদাখে ক্রমবর্ধমান পরিবেশ সংকটকেও সামনে তুলে ধরেছেন। এই দাবিসমূহ নিয়ে দীর্ঘদিন অনশন আন্দোলন করছেন তিনি। কিন্তু দু:খের সাথে স্বীকার করতে হবে কেন্দ্র সরকারের কোনো প্রতিনিধি কখনও তাঁর সাথে সদর্থক আলোচনা করতে উৎসাহী হয়নি। বর্তমানে লাদাখে ফেটে পড়া ছাত্র-যুব আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের নীপিড়ন ও হত্যা করার পন্থাই গ্রহণ করেছে কেন্দ্র সরকার। ইতিমধ্যেই চার জনকে হত্যা ও শতাধিক ছাত্র-যুবকে আহত করেছে কেন্দ্র সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী। এই পন্থার ধারাবাহিকতাতেই সোনম ওয়াংচুক-এর মত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও স্বনামধন্য বিজ্ঞানীকে গ্রেপ্তার করলো বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার।y
সোনম ওয়াংচুকের গ্রেপ্তার ও লাদাখে গণআন্দোলনের ওপর চূড়ান্ত নীপিড়ন বাস্তবে কেন্দ্র সরকারের চূড়ান্ত জনবিরোধী ভূমিকাই প্রস্ফুটিত করে। এই ঘটনা এটাও প্রমাণ করে যে ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়া আদতে কোনো জনস্বার্থে গৃহীত সিদ্ধান্ত ছিল না। কেন্দ্র সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য কাশ্মীর-লাদাখ — সমগ্র অঞ্চলকে কর্পোরেট মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া। তার জন্য তারা নির্দ্বিধায় রক্তের হোলি খেলতে উন্মত্ত৷ সোনম ওয়াংচুকের মত গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বরকে দমন করতেও তাদের দু'বার ভাবতে হয় না।এর থেকে হেডলাইন বার করো