সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বিহার SIR প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ, ভোটাধিকারের নিরাপত্তা প্রশ্নে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব
বিশেষ প্রতিবেদন : বিহার SIR নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। আজ ফাইনাল ভোটার লিস্ট থেকে কোন্ নতুন ৩.৬৬ লক্ষ নাম বাদ গেল এবং তার আগে কোন্ ২১ লক্ষ নাম যুক্ত হয়েছে তা একেবারেই স্পষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেছে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এবং আগামী পরশু পরবর্তী শুনানির দিন এগুলো স্পষ্ট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। মামলাকারীদের পক্ষে অভিষেক মনু সিংভি অভিযোগ করেছেন যে নতুন করে যাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে তাঁদের কাউকে তা জানানো হয় নি, যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের পক্ষের আইনজীবী। এটা প্রমাণ করা যাবে না যদি না নতুন বাদ দেওয়া নামের তালিকা কমিশন প্রকাশ করে। মামলাকারীদের পক্ষে প্রশান্ত ভূষণ সেই দাবিই করেছেন। তিনি এও বলেছেন যে এরকম ১০০ জনকে তিনি কোর্টে হাজির করতে পারেন। এমন হলে কোর্টের ব্যবস্থা নিতে সুবিধে হবে, বিচারপতিরা তেমনই বলছেন। যদিও তাঁরা এখনো নতুন করে বাদ যাওয়া তালিকাও প্রকাশ করতে বলেন নি কমিশনকে।
ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। রাজনৈতিক কারণেই জরুরি। এই মামলার শেষ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট মৌখিক ভাবে বলেছিল যে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে SIR এর গোটা প্রক্রিয়া বাতিল করে দেওয়া হবে। তার আগে ১২ ই আগস্টের শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গে SIR এর বিষয়ে এই বেঞ্চ বলেছিল আগামীতে সেই বিষয়ে শোনা হবে। বোঝাই যায় এই জাজমেন্ট আগামীর জন্য আশাব্যঞ্জক অথবা ক্ষতিকর প্রিসিডেন্স হয়ে থেকে যাবে। বিহারের এই SIR প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বাতিল না হলে বাকি যাই কিছু হোক না কেন, তা ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষতিকর হবে।
অথচ বাতিল হওয়ার বহু কারণ রয়েছে। রয়েছে বলেই নির্বাচন কমিশন আজকের শুনানির আগে তড়িঘড়ি নির্বাচন ঘোষণা করে দিলো এবং এখন সংবিধানের ৩২৯ নম্বর ধারা দেখিয়ে সমগ্র নির্বাচন প্রক্রিয়া আদালতের বাইরে রাখতে চাইছে। সুপ্রিম কোর্ট এই অবস্থায় নাগরিক অধিকার জলাঞ্জলি দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাছে আত্মসমর্পণ করবে নাকি গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়াবে তা আগামীর শুনানিতে নির্ধারিত হবে। তবে আজই নির্বাচন কমিশনকে কেন নতুন বাদ যাওয়া নামের তালিকা প্রকাশ করতে বলা হলো না তা মোটেই বোধগম্য নয়।
আইনে কী হতে পারে? ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৭১ এবং ১৭৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ন্যায্য ভোটদানের অধিকার থেকে বিরত করলে বা বিরত করার চেষ্টা করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। মামলাকারীরা যেমন দাবি করছেন, সেই অনুযায়ী যদি কয়েকজনকে কোর্টে হাজির করতে পারেন যাঁরা বাদ গেছেন, তাহলে তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশনের মুখ্য আধিকারিকের উপর ওই ফৌজদারি মামলা হওয়া উচিত এবং যেহেতু সেই নাগরিকের ন্যায্য ভোটাধিকার SIR এর কারণেই স্পষ্ট বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে সেহেতু তৎক্ষণাৎ SIR এর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে বাতিল ঘোষণা করা উচিত। আগের শুনানিগুলোর পর্যবেক্ষণ থেকেই এই পদ্ধতি সরাসরি ফলো করবে। আমাদের মতে ঠিক এই কারণেই নির্বাচন কমিশন নতুন বাদ যাওয়াদের তালিকা প্রকাশ করতে চাইছে না। এই তালিকা প্রকাশ করতেই হবে।
১৯৪৭ পরবর্তী ভারতের ইতিহাসে এমন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ রয়েছে যেখানে নাগরিক অধিকারকে রাষ্ট্রীয় অপশাসনের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আবার এও দেখা যাচ্ছে যে দিন দিন এই উদাহরণ কমতে থাকছে। এটা ঠিক যে বিহার SIR মামলার চূড়ান্ত রায় আগামীর নাগরিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে ভূমিকা রাখবে এবং সমগ্র SIR প্রক্রিয়া বাতিল করার দাবি ছাড়া নাগরিকের কাছে নির্বাচন কমিশন আর কোনো উপায় অবশিষ্ট রাখেনি।