স্বদেশি বুলি, বিদেশি ভোগ – দ্বিচারিতার মুখোশ খুলে দাও
ইতালির চশমা, সুইজারল্যান্ডের ঘড়ি, জার্মানির কলম, ইতালির জুতো, বিদেশি ব্র্যান্ডের পোশাক, ফোন, গাড়ি – এমনকি যাতায়াতের জন্য বোয়িং ৭৭৭ – এইসব ব্যবহার করে কেউ যদি বলে, “স্বদেশি জিনিস কিনুন, স্বদেশি পণ্য ব্যবহার করুন,” ব্যাপারটা মজাদারই বটে!
যিনি নিজের আচরণে বিদেশি পণ্যের প্রেমে মগ্ন, তিনি কীভাবে বাকিদের শিখিয়ে দেন স্বদেশপ্রেম?
আরেকটা মজার বিষয় – দেশের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা সাংসদদের সন্তানরা পড়াশোনার জন্য পাড়ি দেন বিদেশে, তাদের দৈনন্দিন জীবন বিদেশি পণ্যে মোড়া, অথচ দেশের সাধারণ মানুষকে স্বদেশি পণ্য কেনার আহ্বান জানানো হয়!
নাগপুরের হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা কী কিনবেন?
প্রশ্ন হলো – তারা জানেন তো, কোনটা স্বদেশি আর কোনটা বিদেশি?
চীনা পণ্যের বয়কটের সময় তো দেখেছি – লোকজন জানেই না কোনটা "মেড ইন চায়না"! কেউ তো সঠিক তথ্য জানেই না।
তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে স্বদেশি পণ্য ব্যবহারের পক্ষেই।
কিন্তু প্রশ্ন একটাই – হঠাৎ করে এই "স্বদেশি পণ্য" কেনার ডাক কেন?
দেশীয় শিল্প ধুঁকছে, উৎপাদন কম, চাহিদা কম, বাজারে ধস। অর্থনীতি বিপর্যস্ত।
বিদেশি ঋণের ভারে ভারাক্রান্ত ভারত – শুধু গত এক বছরেই ঋণ বেড়েছে ১০%।
বর্তমানে দেশের মোট ঋণের পরিমাণ ৬৫ লক্ষ কোটি টাকা।
প্রতি নাগরিকের মাথায় গড়ে ঋণ ১ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা!
ভাবতে অবাক লাগে – কী বিচিত্র এই দেশ! মুখে স্বদেশি, হাতে বিদেশি।