স্বামী বিবেকানন্দ: বিলাসের মধ্যেও হৃদয় ভরে আছে স্বদেশের দুঃখে
শিকাগো ধর্মমহাসভায় প্রথম দিনেই স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতা আমেরিকাবাসীর হৃদয় জয় করে নিয়েছিল। তাঁর জয়জয়কার শুরু হয় পশ্চিমে। এক ধনীর বাড়িতে রাজকীয় সম্মানে তাঁকে রাখা হয়, চারিদিকে বিলাস, বৈভব, সুরুচি—তবুও তাঁর মন পড়ে থাকে স্বদেশে, নিজের দীনহীন দেশবাসীর দুঃখে।
স্বামীজি বলেন,
"মা, আমার দেশ যখন চরম দারিদ্রে ডুবে আছে, তখন মানসের আকাঙ্ক্ষা কে করে! লক্ষ লক্ষ মানুষ একমুঠো ভাতের জন্য মরছে, আর এদেশে মানুষ ব্যক্তিগত ভোগের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করছে। মা, দেখিয়ে দাও, আমি কিভাবে ওদের সেবা করতে পারি?"
এক রাতে বেলুড় মঠে তাঁর গুরুভাই হরিপ্রসন্ন মহারাজ শুনলেন, পাশের ঘরে স্বামীজি বিছানা ছেড়ে মাটিতে শুয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। ভয় পেয়ে ছুটে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
"স্বামীজি, শরীর খারাপ হয়েছে?"
স্বামীজি বললেন,
"না রে পেসন, শরীর ঠিক আছে। কিন্তু দেশের দুঃখ-দৈন্য-দুর্দশা আমাকে ঘুমোতে দিচ্ছে না। মন ছটফট করছে। তাই ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করছি—এই দেশের দুর্দিন কেটে যাক, মানুষের মুখে অন্ন আসুক।"
এই হলেন স্বামী বিবেকানন্দ—ভারতের আত্মা যাঁর হৃদয়ে ধ্বনিত হত সর্বদা। তিনি শুধু একজন সন্ন্যাসী নন, ছিলেন জাতির চেতনায় দীপ্ত এক মহাপুরুষ।