সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ শারায়ের ঐতিহাসিক জাতিসংঘ সফর
দমাস্কাস, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ – সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ শারায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। ১৯৬৭ সালের পর এটাই প্রথমবারের মতো কোনো সিরিয়ান প্রেসিডেন্ট এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। শারায় গত মে মাসে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেন, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিয়াদে এক বৈঠকে তাকে সিরিয়ার বৈধ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর আরোপিত বেশিরভাগ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় এবং দেশটির ঐক্য ও স্থিতিশীলতা পুনর্গঠনে শারায়ের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানায়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশন মঙ্গলবার শুরু হবে, যেখানে শারায় তার প্রথম ভাষণ দেওয়ার কথা। সিরিয়ান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই সফরকে "ঐতিহাসিক" আখ্যা দিয়েছে। নিউইয়র্কে পৌঁছানোর আগে সিবিএস নিউজ–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শারায় জানান, তিনি পুনরায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান এবং দুই দেশের সম্পর্ককে "সরাসরি ও ইতিবাচকভাবে পুনর্গঠন" করার আহ্বান জানান। ফিলিস্তিন প্রশ্নে ঐতিহাসিক অগ্রগতি জাতিসংঘে সমান্তরাল আলোচনায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘটনাকে "ঐতিহাসিক মুহূর্ত" হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের স্থায়ী প্রতিনিধি রিয়াদ মানসুর। সম্প্রতি ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও পর্তুগাল ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। মানসুর বলেন, এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের দখলদারিত্বের অবসানে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াবে এবং ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘে পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ পাওয়ার পথ সহজ করবে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই স্বীকৃতিকে "ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ" হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বিনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন, তিনি যেকোনো মূল্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করবেন, একে ইসরায়েলের জন্য "অস্তিত্বের হুমকি" বলে দাবি করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে সৌদি আরব ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “দুই-রাষ্ট্র সমাধান সম্মেলন”। এখানে ফিলিস্তিন স্বীকৃতিদাতা দেশগুলির নেতারা বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে। দক্ষিণ লেবাননে নতুন হামলা অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নতুন করে ৫ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু। এই ঘটনা ঘটেছে বিন্ত জবেইল শহরে, ঠিক সেই সময় যখন "পাঁচ জাতির কমিটি" যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে বৈঠক করছিল। যদিও বৈঠককে "ইতিবাচক" বলে বর্ণনা করা হয়েছে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন ইসরায়েলের এই হামলা একটি "নেতিবাচক বার্তা" বহন করছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। সংক্ষেপে বলা যায়, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ শারায়ের জাতিসংঘে উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, আর একই সময়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সমর্থন অভূতপূর্বভাবে বেড়েছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রম এখনও শান্তি প্রক্রিয়ার বড় অন্তরায় হয়ে রয়ে গেছে।