Tranding

তালিবান: নারী বিদ্বেষ নাকি পশ্চিমা অপপ্রচার?

আজকের পৃথিবীতে “তালিবান” শব্দটি উচ্চারণ করলেই অনেকের মুখ বিকৃত হয়ে যায়। কেউ বলেন “বর্বর”, কেউ “সন্ত্রাসী”, কেউ আবার “নারীবিদ্বেষী” বলে আঙুল তোলে। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি—এই অভিযোগগুলির পেছনে কতটা বাস্তবতা, আর কতটা অপপ্রচার?

তালিবানরা দাবি করে তারা ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী জীবনযাপন করে এবং আফগানিস্তানে সেই আইনই প্রতিষ্ঠা করেছে। তাদের বিশ্বাস—শরিয়াহর বিধান কোনো মানুষের বানানো আইনের মতো নয়, বরং এটি আল্লাহর দেওয়া ন্যায়ের ব্যবস্থা। তাই তারা শরিয়াহর বিষয়ে কোনো আপস করে না, করবে না—যে অবস্থায়, যে স্থানে থাকুক না কেন।

🔹 নারীর প্রতি ইসলামের নির্দেশনা

ইসলাম পুরুষ ও নারী উভয়কেই শালীনতা ও মর্যাদার শিক্ষা দেয়। একজন প্রকৃত মুসলিম পুরুষ কখনোই কোনো বেপর্দা নারীর দিকে কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকাবে না, কিংবা তার সামনে অনর্থক উপস্থিতও হবে না। তালিবানদের এই নীতি অনেকের কাছে ‘নারীবিদ্বেষ’ বলে মনে হলেও, তাদের দৃষ্টিতে এটি বরং নারীর প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ।

অন্যদিকে পশ্চিমা সভ্যতা যে "নারী স্বাধীনতা"র বুলি আওড়ায়, সেটিই নারীদের এক প্রকার বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করেছে। বিজ্ঞাপন, সিনেমা, মিডিয়া—সবখানে নারী দেহই বিক্রির মূল হাতিয়ার। তাই তালিবানদের ধর্মীয় অনুশাসন ও শালীনতা পশ্চিমাদের কাছে গলায় কাঁটার মতো লাগে—এটাই স্বাভাবিক।

🔹 বিদ্বেষ নয়, বরং শ্রদ্ধা

তালিবান নেতাদের আচরণকে অনেকেই নারীদের প্রতি অপমান হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু ভেতরের সত্যটা হয়তো অন্যরকম। একজন পুরুষ যদি অপরিচিত নারীর সামনে বসতেও সংকোচ বোধ করে, তা বিদ্বেষ নয়, বরং ইসলামী শিক্ষায় প্রাপ্ত লজ্জা ও সম্মানবোধেরই বহিঃপ্রকাশ।

যারা নারী স্বাধীনতার নামে উচ্ছৃঙ্খলতা, অশালীনতা ও বেহায়াপনার প্রচার করেন—তাদের কাছে এমন আচরণ ‘রক্ষণশীল’ বলে মনে হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই রক্ষণশীলতার মধ্যেই রয়েছে নারীর নিরাপত্তা ও সম্মান।

🔹 পশ্চিমা সমাজের দ্বিচারিতা

যারা তালিবানকে নারী নির্যাতনের দায়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়, তাদের সমাজেই প্রতিদিন ঘটে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, অ্যাসিড হামলা, নারী হত্যা, পরকীয়ার নামে হত্যাকাণ্ড কিংবা নারীঘটিত কেলেঙ্কারি।

যে দেশে ধর্ষকের সমর্থনে মানুষ জাতীয় পতাকা নিয়ে রাস্তায় নামে, যেখানে বিচার নামের প্রহসনে ধর্ষক মুক্তি পায় আর ধর্ষিতা আত্মহত্যা করে, সেখানে নারীর প্রতি সম্মান কতটা, তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়।

যে সমাজে সংখ্যালঘু নারীদের কবর থেকে তুলে ধর্ষণ করা হয়, পণ দিতে না পারলে বধূকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়, সেখানে নারী স্বাধীনতার বুলি নিছক ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়। অথচ মুখে তারা বলে—“নারীই দেবী”!

🔹 তালিবান শাসনে নারী নির্যাতন?

তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর কি এমন ভয়াবহ নারী নির্যাতনের কোনো খবর পাওয়া গেছে? না, এমন কোনো ঘটনার উদাহরণ খুব কমই পাওয়া যায়। অথচ পশ্চিমা প্রচারমাধ্যমে তালিবান মানেই যেন নারী বিদ্বেষ, নারীর কারাবাস। বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন।

🔹 ইভন রিডলির ঘটনা

ব্রিটিশ সাংবাদিক ইভন রিডলি—যিনি একসময় তালিবানদের ‘বর্বর’ বলে রিপোর্ট করতেন, আফগানিস্তানে বন্দি হওয়ার পর নিজের অভিজ্ঞতায় বদলে যান। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তালিবানদের সৌজন্য, শালীনতা ও মানবিক আচরণের কথা নিজের বইতে লিপিবদ্ধ করেন।

তার অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে—প্রচারিত গল্পের পেছনে আরেকটি সত্য সবসময় থেকেই যায়, যা সাধারণ মানুষের কানে পৌঁছায় না।

🔹 উপসংহার

তালিবানদের নাম শুনলেই অনেকের নাক সিটকানো এখনো বন্ধ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়া ও রাজনৈতিক প্রচারে তাদের একতরফা চিত্র তুলে ধরা হয়েছে—যেন তারা কেবলই সন্ত্রাসী, খুনি, কুসংস্কারাচ্ছন্ন। কিন্তু আজ সেই তালিবানদের সঙ্গেই অনেক পশ্চিমা রাষ্ট্র কূটনৈতিক আলোচনায় বসছে।

সম্ভবত এই “হজম না হওয়া” বাস্তবতাই অনেকের ক্ষোভের মূল কারণ।

তালিবানরা নিখুঁত নয়—তাদেরও ভুল থাকতে পারে, থাকতে পারে অতি-রক্ষণশীলতা। কিন্তু তাদের নারী বিদ্বেষী বলে চিহ্নিত করা নিছক একতরফা প্রচার ছাড়া আর কিছু নয়।

বরং তারা যে সমাজে নারীর মর্যাদা রক্ষার চেষ্টা করছে, সেটিকে “বিদ্বেষ” বলা আসলেই একধরনের বুদ্ধিবিকলতা।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.