তালিবান ও পাকিস্তানের সীমান্ত সংঘর্ষে তীব্র উত্তেজনা — উভয় পক্ষের পাল্টা অভিযোগ, নিহত ডজনাধিক
নিজস্ব প্রতিবেদন | ইসলামাবাদ | ১৩ অক্টোবর ২০২৫
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘর্ষ নিয়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। রোববার উভয় দেশ একে অপরকে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সংঘর্ষে উভয় পক্ষেরই ডজনাধিক সেনা সদস্য নিহত হয়েছে।
পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, আফগান বাহিনীর আকস্মিক হামলায় তাদের অন্তত ২৩ জন সেনা নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছে। ইসলামাবাদ এ ঘটনাকে "জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর অগ্রহণযোগ্য আঘাত" বলে আখ্যা দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আফগানিস্তানের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান নিজের সীমান্ত রক্ষায় কোনো আপস করবে না।
অন্যদিকে, কাবুলের তালিবান সরকার দাবি করেছে, আফগান সেনারা পাকিস্তানি বাহিনীর ২৫টি চৌকি দখল করেছে এবং অন্তত ৫৮ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, “আমাদের বাহিনী পুরোপুরি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, অবৈধ অনুপ্রবেশের সব প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।”
শনিবার রাতে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষের পর পাকিস্তান টোরখাম ও চামান সীমান্ত পয়েন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যাতায়াত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “তালিবান যোদ্ধা ও ভারত-সমর্থিত জঙ্গিরা” সীমান্ত এলাকায় অপ্ররোচিত হামলা চালায়। সেনাবাহিনী পাল্টা জবাবে “২০০-র বেশি তালিবান যোদ্ধাকে” হত্যা করার দাবি করেছে।
অন্যদিকে, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “পাকিস্তানি বাহিনীর আগ্রাসনের জবাবে আমাদের বাহিনী সফল পাল্টা অভিযান চালিয়েছে। যদি আবারও আমাদের ভূমি লঙ্ঘন করা হয়, আফগান সেনারা শক্তভাবে জবাব দেবে।”
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডি এ ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “এই সীমান্ত বহু বছর ধরে অস্থিরতা ও মানবিক বিপর্যয়ের সাক্ষী। নতুন করে সংঘর্ষ সেই সংকট আরও বাড়াবে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আফগান তালিবান সরকারের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা পাকিস্তানের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহেই ভারত প্রথমবারের মতো ২০২১ সালের পর আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানায়।
আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ ওয়াহিদ ফাকিরি মন্তব্য করেন, “তালিবান-ভারত সম্পর্কের উন্নতি পাকিস্তানকে স্পষ্টতই চাপে ফেলেছে। ইসলামাবাদের সামরিক প্রতিক্রিয়া সেই হতাশারই বহিঃপ্রকাশ।”
উভয় দেশের মধ্যে ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রেখা — ‘দুরান্দ লাইন’ — বহু বছর ধরেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমান সংঘর্ষ সেই পুরনো বিবাদের নতুন অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত