দিল্লিতে ভয়াবহ গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ: প্রধানমন্ত্রী মোদির মন্তব্য—‘এটি এক ষড়যন্ত্র’
রাজধানী নয়াদিল্লির পুরনো শহরাঞ্চলে ভয়াবহ গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৮ জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লা স্মৃতিসৌধের কাছে, ব্যস্ত মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থল মুহূর্তেই আগুনে পুড়ে যায় এবং বেশ কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়িটি চলতে চলতেই বিস্ফোরিত হয়, এবং আশপাশের মানুষ আগুনে দগ্ধ হন।
মঙ্গলবার এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এটি একটি “সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র”, এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। ভুটান সফরকালে দেওয়া এক বক্তব্যে মোদি বলেন, “আমি সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই যে আমাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সত্য উদঘাটনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। যারা জড়িত, তারা শাস্তি পাবে।”
এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যম প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (PTI) জানিয়েছে, পরবর্তীতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পুরনো দিল্লির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
প্রাথমিক তদন্তে বিস্ফোরণের সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ‘জইশ-ই-মোহাম্মদ’ ও ‘আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দ’-এর সংযোগ পাওয়া গেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। রাজধানী পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাজা পন্থিয়া বলেন, “তদন্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় চলছে এবং আমরা আন্তর্জাতিক সংযোগ খতিয়ে দেখছি।”
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ঘটনাটিকে “দেশের বিরুদ্ধে এক নৃশংস আঘাত” বলে মন্তব্য করেছেন এবং বলেছেন, “গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দ্রুত তদন্ত করছে, দোষীরা কোনোভাবেই রেহাই পাবে না।”
বিস্ফোরণের পরই পুরো দিল্লি শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরের রেলস্টেশন, মেট্রো স্টেশন ও সরকারি ভবনগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রায় ৩ কোটি মানুষের এই মহানগরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই চেকপোস্ট ও টহল বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ২০১১ সালের দিল্লি হাইকোর্ট বিস্ফোরণের পর রাজধানীতে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। ওই হামলায় ১৪ জন নিহত হয়েছিল। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন হিন্দু নাগরিক নিহত হওয়ার পর এটি ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য আরেকটি গুরুতর সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে, এবং দিল্লি পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করছে। এখনও পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।