থাইল্যান্ডের ‘রানী মা’ সিরিকিট আর নেই, বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর
ব্যাংকক: থাইল্যান্ডের রাজপ্রাসাদ শনিবার জানিয়েছে যে দেশটির ‘রানী মা’ সিরিকিট কিতিয়াকারা, যিনি যুদ্ধোত্তর থাই রাজতন্ত্রে শৈলী ও সৌন্দর্যের প্রতীক ছিলেন, ৯৩ বছর বয়সে পরলোকগমন করেছেন।
সরকারি মুখপাত্র জানান, প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল ‘আসিয়ান’ সম্মেলনে যোগ দিতে মালয়েশিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। শনিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অন্ত্যেষ্টির প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হবে।
রানী সিরিকিট ২০১২ সালে স্ট্রোকের পর থেকে জনসমক্ষে আর তেমন দেখা দেননি। তাঁর স্বামী, প্রয়াত রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজ, ছিলেন থাইল্যান্ডের দীর্ঘতম সময় রাজত্ব করা সম্রাট— ১৯৪৬ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ৭০ বছর। এই দীর্ঘ শাসনকালে সিরিকিট তাঁর সঙ্গী হয়ে দেশের মানুষের হৃদয় জয় করেন দাতব্য কাজ ও গ্রামীণ উন্নয়নের মাধ্যমে।
১৯৬০ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সৌন্দর্য ও রুচিশীল পোশাকের জন্য। ফরাসি ডিজাইনার পিয়ের বালমাঁর সঙ্গে কাজ করে থাই সিল্ক শিল্পের পুনরুজ্জীবনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন তিনি।
১৯৭৬ সালে তাঁর জন্মদিন ১২ আগস্ট থাইল্যান্ডে জাতীয় ছুটি ও ‘মাদার্স ডে’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
তাঁর পুত্র রাজা মাহা বাজিরালংকর্ন, যিনি রামা দশম নামেও পরিচিত, ২০১৬ সালে রাজা ভূমিবলের মৃত্যুর পর সিংহাসনে আরোহণ করেন। ২০১৯ সালে তাঁর অভিষেকের পর সিরিকিটের আনুষ্ঠানিক উপাধি হয় ‘রানী মা’।
রানী সিরিকিটকে থাই জনগণ স্মরণ করবেন দাতব্য কাজের জন্য এবং মাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে। তাঁর চার সন্তান — রাজা মাহা বাজিরালংকর্ন এবং তিন কন্যা।