১৯৪১ সালের বন্যায় সাঁতার কেটে কাবা ঘিরে তাওয়াফ সম্পন্ন করেছিলেন আলি আল-আওয়াধি
প্রতিবেদন:
১৯৪১ সালে মক্কায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছিল। অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ফলে মসজিদুল হারাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়ে যায়। সেই সময় কাবার চারপাশে জমানো পানির উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে মাত্র ১২ বছরের এক বালক—আলি আল-আওয়াধি, যিনি মূলত বাহরাইনের বাসিন্দা—সাঁতার কেটে কাবার চারপাশে তাওয়াফ সম্পন্ন করেছিলেন।
আলি ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু ও শিক্ষক সেই দিন মসজিদে যান। চারপাশে শুধু পানির স্রোত, হেঁটে তাওয়াফ করা অসম্ভব। তখনই আলি প্রস্তাব দেন যে, তারা সাঁতার কেটে তাওয়াফ করবে।
প্রথমে পুলিশ বাধা দেয়, কারণ তাদের আশঙ্কা ছিল কেউ হয়তো হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার চেষ্টা করতে পারে অথবা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলি সাঁতার কেটে পূর্ণ তাওয়াফ সম্পন্ন করেন।
বছর কয়েক পর এক সাক্ষাৎকারে আলি স্বীকার করেছিলেন যে, তাঁর মনে আনন্দ ও ভয় দুই-ই ছিল—আনন্দ ছিল এমন এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতার জন্য, আর ভয় ছিল পুলিশ হয়তো গুলি চালাতে পারে। তবে পরে জানা যায়, অস্ত্রটি আসলে খালি ছিল।
পুরোনো কিছু ছবিতে দেখা যায়, আলি কাবার পাশে সাঁতার কেটে ঘুরছেন। এই ঘটনার পর থেকেই তাঁকে ইতিহাসে “কাবাকে সাঁতার কেটে ঘিরে তাওয়াফ করা একমাত্র ব্যক্তি” হিসেবে স্মরণ করা হয়।
২০১৫ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরও এই কাহিনী মুসলিম সমাজে আলোচিত হয় এবং একে আধ্যাত্মিক দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।