গাজা পুনর্গঠনের ব্যয় বহন করা উচিত ইসরাইল ও তার মিত্রদের: জাতিসংঘ বিশেষ প্রতিবেদক
জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ বলেছেন, গাজা পুনর্গঠনের আর্থিক দায়িত্ব ইসরাইল এবং তাদের প্রধান সহযোগী দেশগুলোর নেওয়া উচিত। শুক্রবার লন্ডনে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আলবানিজের বক্তব্য অনুযায়ী, গাজায় সংঘটিত সহিংসতা ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে কেবল ইসরাইলই নয়, যেসব দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই অভিযানে সহায়তা করেছে, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা এবং অবৈধ দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক, সামরিক বা অর্থনৈতিক সহায়তা বন্ধ করা।
জবাবদিহির প্রসঙ্গে আলবানিজ উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ইতালির মতো দেশ—যারা ইসরাইলকে বড় পরিসরে অস্ত্র সরবরাহ করে—তাদেরও গাজা পুনর্গঠনে অর্থায়নে অংশ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সাইপ্রাসের ঘাঁটি ব্যবহার করে ইসরাইলে দেওয়া বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা নিয়েও কঠোর তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।
আলবানিজের মতে, গাজায় টানা দুই বছরের ধ্বংসযজ্ঞ কয়েক দশক ধরে চলা দায়মুক্তির ফল। তিনি বলেন, লন্ডন, রোম, বার্লিন বা প্যারিসে ইসরাইল নীতি নিয়ে অবস্থান পরিবর্তন না হলে এই সহিংসতার অবসান ঘটানো কঠিন হবে।
নিজের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপের ফলে শুধু তিনি নন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক ও ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলোও কার্যত অপরাধীর কাতারে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তার অভিযোগ, এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখনো পর্যাপ্ত ও দৃঢ় প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।