ভারতীয় ইতিহাসের বিকৃতি: মোগল সাম্রাজ্য থেকে হিন্দু রাজাদের অস্বীকার পর্যন্ত
মোহাম্মদ সাদউদ্দিন
আরএসএস-বিজেপির হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শুধু মোগল সাম্রাজ্যই নয়, তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত হিন্দু রাজা এবং সেনাপতিদের নামও ভারতের জাতীয় পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভারতের জাতীয় শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পরিষদ (NCERT) তাদের অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইতে বড় পরিবর্তন এনেছে, যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
এনসিইআরটির পরিবর্তিত পাঠ্যক্রমে দিল্লি সুলতানি আমল এবং মোগল সাম্রাজ্য সম্পর্কিত কোনো বিস্তারিত ইতিহাস নেই। শুধু তাজমহল, আগ্রা ফটক, নিজামুদ্দিন দরগা এবং লখনউয়ের ঘুলঘুলাইয়ার মতো স্থাপনাগুলি সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজপুত, সোলাঙ্কি, চৌহান, মারাঠা, এবং অন্যান্য রাজবংশগুলির মধ্যে মোগলদের সঙ্গে সদ্ভাব ছিল, সে বিষয়ে অনেক কিছু বাদ পড়েছে।
এছাড়া, ২০১৪ সালে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পর, মোগলদের তৈরি শহরগুলির নাম পরিবর্তন করে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে—যেমন, এলাহাবাদ থেকে 'প্রয়াগরাজ', মুর্শিদাবাদ থেকে 'কাটরা মসজিদ'-এর পরিবর্তন ইত্যাদি। এদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট: ভারতীয় ঐতিহ্যের প্রতি তাদের সংকীর্ণ ও পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি।
গৌড়বঙ্গের ইতিহাসেও পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টা চলছে। যেমন, তুর্কি সুলতানদের আমল এবং নবাবী মুর্শিদাবাদকে নিয়ে বিকৃত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। মুর্শিদাবাদের ইতিহাস থেকে দেশপ্রেমিক বীরদের স্মৃতি মুছে ফেলা হচ্ছে, এবং তাদের স্থাপনাগুলি অবহেলিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলি স্পষ্টতই ভারতের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে হুমকির মুখে ফেলছে।