Tranding

পদ্মভূষণ ফিরিয়ে দেওয়া প্রথম বাঙালি: নাট্যাচার্য শিশির ভাদুড়ীর অজানা কাহিনী

বিশেষ প্রতিবেদন | অনলাইন বঙ্গদর্পণ

আপনি কি জানেন, প্রথম কোন ভারতীয় পদ্মপুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন?
উত্তর—একজন বাঙালি নাট্যাচার্য, শিশিরকুমার ভাদুড়ী

ভারত সরকার নাট্যকার হিসেবে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে পদ্মভূষণ দেওয়ার ঘোষণা করে। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। সরকারের প্রতি লেখা চিঠিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন—
“এই সম্মান আমি নিতে পারব না। এতে নাট্যশিল্পীরা ভুল বার্তা পাবেন যে সরকার নাটকের গুরুত্ব বোঝে। সত্যি যদি সরকার আমাকে সম্মান জানাতে চায়, তবে কলকাতায় একটি পাবলিক নাট্যশালা গড়ে দিক।”

🎭 নাটকে নবজাগরণের পথিকৃৎ

শিশিরবাবুই প্রথম বাংলা নাটকে আনলেন ত্রিমাত্রিক সেট, আলো-আঁধারির সঠিক ব্যবহার। তাঁর পরিচালনায় রবীন্দ্রনাথের শেষরক্ষা মঞ্চস্থ হয় নতুনভাবে। তার আগে শুধু ছবি আঁকা পর্দায় নাটক হত, সংলাপ আওড়ে দেওয়া ছিল নিয়ম। তিনিই বাংলা নাটককে পেশাদারি মানচিত্রে নিয়ে এলেন।

📚 ব্যক্তিজীবনে সরলতা ও অধ্যয়নপ্রিয়তা

বই পড়তে ভীষণ ভালোবাসতেন। বাড়িতে ছিল সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। নিরামিষভোজী ছিলেন, শুক্তো ছিল প্রিয় খাবার। গোলাপি প্যাঁড়া, ফল, দুধ, সন্দেশ খেতে ভালোবাসতেন। কিন্তু কখনও বাড়িতে সংলাপ আওড়াতে বা আত্মপ্রদর্শন করতে দেখা যায়নি তাঁকে। ছিলেন বৈরাগী, উদাসীন, অথচ গভীর দেশপ্রেমিক।

🇮🇳 দেশপ্রেম ও নেতাজীর প্রতি ভক্তি

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুই ছিলেন তাঁর প্রেরণা। ঘরে ছিল কেবল নেতাজীর ছবি। প্রতি ২৩ জানুয়ারি নাটক শুরু করার আগে নেতাজীকে মালা পরিয়ে শ্রদ্ধা জানাতেন। তাঁর অন্যতম প্রযোজনা ছিল ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদের লেখা রঘুবীর—যা তিনি প্রথম জাতীয়তাবাদী নাটক বলে ঘোষণা করেছিলেন।

🌟 প্রভাব

নাট্যাচার্য শিশির ভাদুড়ীকে গুরু মানতেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়সহ অসংখ্য অভিনেতা। তাঁর অবদান ছাড়া আজকের বাংলা নাট্যধারা কল্পনাই করা যেত না।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.