Tranding

আফগানিস্তানে নারীদের গোপন বাস্তবতা: শিক্ষায়, পেশায় ও বিনোদনে সীমিত স্বাধীনতা

 আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নারীদের অধিকার হ্রাসের দেশ হিসেবে পরিচিত আফগানিস্তানে বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, কঠোর সামাজিক নিয়মকানুনের মধ্যেও নারীরা শিক্ষা, পেশা ও বিনোদনের কিছু নির্ধারিত সুযোগ উপভোগ করছেন—যদিও তা নির্দিষ্ট শর্ত ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে।

প্রাথমিক শিক্ষার বাইরেও নারীদের শিক্ষার সুযোগ

তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে মেয়েরা ষষ্ঠ শ্রেণির পরও শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, তবে সেটা নির্দিষ্ট বালিকা মাদ্রাসায় এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। এসব প্রতিষ্ঠান আধুনিক পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে এবং অনেক ছাত্রী পরে স্বাস্থ্য খাতে ডিপ্লোমা নিয়ে ডাক্তার বা নার্স হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে। কেউ কেউ প্রশিক্ষণ নিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করেন—যেমন দর্জির দোকান, বেকারি বা ঘরোয়া উৎপাদন ভিত্তিক উদ্যোগ।

নারীদের জন্য নির্দিষ্ট দিনে পার্কে প্রবেশের সুযোগ

পাবলিক পার্কে নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ নয়, তবে তা নির্দিষ্ট দিনে সীমাবদ্ধ। সপ্তাহের কিছু দিন শুধুমাত্র নারীদের জন্য নির্ধারিত থাকে, যেখানে পুরুষদের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং হয়রানির ঝুঁকি কমে।

নারী-কেন্দ্রিক পেশাজীবন ও বাজার ব্যবস্থা

আফগান নারীরা এখনো কিছু নির্দিষ্ট খাতে কাজ করছেন—যেমন স্বাস্থ্যসেবা, পুলিশ, বিমানবন্দর নিরাপত্তা, গণমাধ্যম ও ব্যবসা। তবে এসব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ আলাদা পরিবেশে কাজ করেন। এছাড়া দেশটির কিছু অঞ্চলে রয়েছে সম্পূর্ণ নারী-নির্ভর বাজার, যেখানে বিক্রেতা ও ক্রেতা—উভয়েই নারী। এই বাজারগুলো নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আন্তর্জাতিক প্রচারের অনীহা

স্থানীয়দের মতে, আফগান সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই এসব ইতিবাচক দিক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচার করে না, যাতে এটি দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে গণ্য না হয়। ফলে আন্তর্জাতিক মহল অনেক সময় আফগান নারীদের জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্র জানতে পারে না।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.