Tranding

যিনি ফৈজাবাদের মাটিকে রক্তে রাঙিয়ে দিয়ে গেছেন…   মৌলভী আহমদুল্লাহ শাহ।

মৌলভী আহমাদুল্লাহ শাহ বিশ্বাস করতেন সশস্ত্র বিদ্রোহের সাফল্যের জন্য জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দিল্লি , মিরাট , পাটনা , কলকাতা এবং আরও কয়েকটি জায়গায় ভ্রমণ করেন এবং স্বাধীনতার বীজ বপন করেন।

১৮৫৭ যখন দিল্লি পতনের খবর ছড়িয়ে পড়ল, তখনও একজন মানুষ হাসছিলেন না, কাঁদছিলেন না।  

শুধু বলছিলেন, “যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি।”

তিনি ছিলেন ফৈজাবাদের মৌলভী।  

লম্বা দাড়ি, সাদা জোব্বা, চোখে আগুন।  

মসজিদের মিম্বর থেকে তিনি ঘোষণা করলেন:  

“যে ব্রিটিশ আমাদের দিল্লি কেড়ে নিয়েছে, তার সঙ্গে কোনো সন্ধি নেই। লড়াই চলবে।”

তারপর শুরু হলোলো সেই অগ্নিযুগ।  

ফৈজাবাদ, লখনউ, শাহজাহানপুর—যেখানেই ব্রিটিশ সেনা গেল, সেখানেই তাঁর নামে গর্জে উঠল হাজারো গলা:  

“মৌলভী আহমদুল্লাহ কি জয়!”

তিনি যুদ্ধ করতেন সামনে থেকে।  

ঘোড়ার পিঠে, তরবারি হাতে, মাথায় সবুজ পাগড়ি।  

ব্রিটিশ অফিসাররা লিখে গেছে:  

“This man fights like a lion, and his followers fight like madmen.”

অবশেষে এলো সেই দিন—৫ জুন, ১৮৫৮।  

পোয়াইন গ্রামের কাছে, আমেঠি।  

ব্রিটিশরা ঘিরে ফেলল তাঁর ছোট্ট দলকে।  

তিনি নামলেন ঘোড়া থেকে।  

নিজের জোব্বা খুলে মাটিতে বিছিয়ে দিলেন।  

তারপর প্রার্থনা করতে লাগলেন।  

প্রার্থনা শেষ হওয়ার আগেই গুলি এলো।  

প্রথম গুলিটা লাগল বুকে।  

তিনি পড়ে গেলেন।  

কিন্তু মুখে তুলে শেষ কথা বললেন:  

“ঈশ্বর সাক্ষী … হিন্দুস্তান আজাদ হবে।”

ব্রিটিশরা তাঁর দেহ কেটে টুকরো করল।  

মাথা নিয়ে গেল লখনউতে প্রদর্শন করতে।  

কিন্তু যে মানুষটার রক্ত পড়েছিল আমেঠির মাটিতে,  

সেই রক্তই আজও চিৎকার করে বলে:  

“আমি মরিনি। আমি বেঁচে আছি তোমাদের রক্তে।”

আজ যখন আমরা স্বাধীন বাতাসে নিশ্বাস নিই,  

তখন কি মনে পড়ে সেই মৌলভীর কথা?  

যিনি জানতেন, তিনি মরবেন।  

তবু লড়েছিলেন।  

শুধু একটাই স্বপ্ন নিয়ে—  

“আমার দেশ যেন আর কারো গোলাম না থাকে।”

সালাম, হে শের-এ-আওধ।  

সালাম, হে মৌলভী আহমদুল্লাহ শাহ।  

তোমার রক্তের দাম আমরা কখনো শোধ করতে পারব না।  

কিন্তু তোমার নামটা অন্তত মনে রাখব।  

প্রতি়তিধ্বনি করে যিনি ফৈজাবাদকে আগুন দিয়েছিলেন, তিনি আজও জ্বলছেন।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.