পঞ্চায়েত এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ঠেকাতে নতুন বিল্ডিং রুলস আনছে রাজ্য
গ্রামাঞ্চলে বেআইনি বহুতল ও অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণের লাগাম টানতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। পঞ্চায়েত এলাকাগুলির জন্য আলাদা ও স্পষ্ট বিল্ডিং রুলস চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতরের তত্ত্বাবধানে ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত নীতির একটি খসড়া প্রস্তুত হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে সেই খসড়ার আর্থিক দিকগুলি খতিয়ে দেখছে অর্থ দফতর। প্রশাসনের দাবি, মূল্যায়নের কাজ প্রায় শেষের দিকে। সব ঠিক থাকলে খুব শীঘ্রই গ্রামীণ এলাকার জন্য নতুন বিল্ডিং রুলসের চূড়ান্ত রূপ ঘোষণা করা হতে পারে।
রাজ্য প্রশাসনের মতে, পুরসভা ও পুরনিগম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিস্তারিত ও নির্দিষ্ট নির্মাণবিধি চালু রয়েছে। কিন্তু পঞ্চায়েত এলাকায় এখনও পর্যন্ত কোনও একক ও পূর্ণাঙ্গ বিল্ডিং রুলস নেই। কিছু বিচ্ছিন্ন নিয়মের ভিত্তিতেই বর্তমানে বাড়ি বা বহুতল নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে নিয়মের ফাঁক গলে গ্রামাঞ্চলেও বেআইনি নির্মাণ বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে।
বিশেষ করে অনুমোদন ছাড়াই গগনচুম্বী বহুতল তৈরির প্রবণতা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এই পরিস্থিতি মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পঞ্চায়েত এলাকায় পৃথক ও সুস্পষ্ট বিল্ডিং রুলস প্রণয়নের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মেনেই কাজ শুরু করে পঞ্চায়েত দফতর। নীতি তৈরির সময় রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সঙ্গেও একাধিক দফায় আলোচনা হয়।
প্রস্তাবিত নতুন নিয়মে শহরের মতো গ্রামাঞ্চলেও রাতের বেলায় নির্মাণকাজের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার কথা ভাবা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সূর্যাস্তের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়ে পঞ্চায়েত এলাকায় নির্মাণকাজ করতে হলে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। সেই অনুমতি দেওয়া হবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্ধারিত বিধি মেনে।
প্রশাসনের বক্তব্য, রাতের বেলায় নির্মাণকাজ হলে শব্দদূষণ ও পরিবেশগত সমস্যার মাত্রা বেড়ে যায়, যার ফলে আশপাশের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। পাশাপাশি, রাতের অন্ধকারে নজর এড়িয়ে বেআইনি নির্মাণ চালানোর প্রবণতাও রোখা যাবে।
প্রশাসনিক মহলের আশা, নতুন বিল্ডিং রুলস কার্যকর হলে অনুমোদনহীন নির্মাণ আগেভাগেই আটকানো সম্ভব হবে। ফলে পরে অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে হবে না।
—ফাইল ছবি।