সত্যের অনন্ত যাত্রা ও রাজনীতি
নির্বোধ মানুষের অহংকারের অন্ত নেই; সে যার সৃষ্টি, তাকে সে বন্দি করতে চায়।
‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ – আমি রাজবিদ্রোহী! সেজন্য আমি রাজদ্বারে অভিযুক্ত এবং রাজ-কারাগারে বন্দি।
একদিকে রাজা, হাতে রাজদণ্ড; অন্যদিকে সত্য, হাতে ন্যায়দণ্ড। রাজা তাঁর নিয়োগকৃত কর্মচারীদের দ্বারা শাসন করেন, কিন্তু আমি সেই রাজ, সকল রাজার রাজা, সকল বিচারকের বিচারক, চিরকাল সত্য এবং জাগ্রত ভগবান।
আমার বিচারককে কেউ নিযুক্ত করেনি। এই মহাবিচারক রাজা-প্রজা, ধনী-দরিদ্র, সুখী-দুঃখী সকলকে সমান চোখে দেখে। তাঁর সিংহাসনে রাজমুকুট ও ভিখারির একতারা পাশাপাশি বসে। তাঁর আইন – ন্যায় এবং ধর্ম। এই আইন বিশ্বমানবের অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত; এটি সার্বজনীন, এটি সার্বভৌমিক ভগবানের আইন।
রাজা যদি সৃষ্টি ও বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ছোটখাটো অংশের অভিভাবক হন, আমি আদি স্রষ্টা, অখণ্ড স্রষ্টা। রাজা ও আমার মধ্যে পার্থক্য – তাঁর লক্ষ্য স্বার্থ, লাভ; আমার লক্ষ্য সত্য, পরমানন্দ।
রাজা যখন বাণী দেয়, তা বুদবুদে সীমাবদ্ধ, কিন্তু আমার বাণী – অপরিসীম সমুদ্র। আমি কবি, যার কণ্ঠে ভগবান সাড়া দেন। আমার বাণী রাজদ্রোহী হতে পারে, কিন্তু ধর্মের আলোর মধ্যে তা কখনো অম্লান ও নিষ্কলুষ।
যতদিন আমি বাঁচব না, রাজাও মরবে, তবে সত্যের প্রকাশ কখনো রুদ্ধ হবে না। তার বাণী চিরকাল বেঁচে থাকবে এবং নতুন কণ্ঠে ফুটে উঠবে। যে বিদ্রোহী অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে, সে কখনো রাজবিদ্রোহী হতে পারে না। আমি রাজার বিরুদ্ধে নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী।
বিচারক জানে, আমি যা বলেছি তা ভগবানের চোখে অন্যায় নয়। কিন্তু সে রাজপন্থী, তাই শাস্তি দিতে পারে। তার বিচারের প্রশ্নই আসে না। বিচারক কাকে দায়ী করবেন? রাজাকে না, ধর্মকে?
"বিচারকের বিচার রাজার নয়, কিন্তু ভগবানের হতে হবে।"