Tranding
আর্ন্তজাতিক / December 10, 2025

ইরাকে ভারিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় তিনজনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরাঞ্চলের সড়ক–সেতু

ইরাকের উত্তরাঞ্চলে টানা ভারিবৃষ্টি ও হঠাৎ তৈরি হওয়া বন্যায় কিরকুক প্রদেশে দুই জন প্রাপ্তবয়স্ক ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার জরুরি ত্রাণ নির্দেশ দিয়েছে।

 

গত দুই দিন ধরে দেশজুড়ে প্রবল বর্ষণ হয়, যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে কিরকুক, সালাহউদ্দিন, আরবিল ও সুলায়মানিয়া প্রদেশে। দীর্ঘ খরার পর এ বর্ষণ যদিও পানিসম্পদ বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে, তবে হঠাৎ সৃষ্ট স্রোতে কিছু এলাকা প্লাবিত হয় এবং যাতায়াতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।

 

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়াহ আল–সুদানি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ বিভাগকে দ্রুত ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা, আর্থিক সহায়তা বরাদ্দ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

সরকার আরও জানায়, কিরকুক–সালাহউদ্দিন সীমান্ত এলাকায় একটি অস্থায়ী জরুরি কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে সামরিক প্রকৌশল ইউনিট, জনপ্রিয় গণঅভিযান বাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ, সড়ক ও সেতু কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন একসঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

 

আবহাওয়ার উন্নতি হলে আটক হয়ে পড়া মানুষের জন্য সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধার কাজ শুরু করার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভেঙে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত সেতু–সড়ক দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু হচ্ছে।

 

প্রবল স্রোতের কারণে কিরকুক, সালাহউদ্দিন ও কুর্দিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও কৃষিজমিতে পানি ঢুকে পড়ে। নাগরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জরুরি সতর্কতা জারি করে প্রয়োজন ছাড়া প্রদেশগুলোর মধ্যে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে।

 

এদিকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, উত্তর ও উত্তর–পূর্বাঞ্চলে কিছু স্থানে ১২০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে দজলা, ফুরাত ও তাদের উপনদীগুলোর উজানের এলাকায় বন্যার স্রোত নেমে এসেছে। কর্তৃপক্ষ এই পানি বিভিন্ন প্রধান বাঁধে প্রবাহিত করার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে দেশের পানির ঘাটতি কিছুটা কমে এবং শীতকালীন ফসলের সেচ নিশ্চিত করা যায়।

কুর্দিস্তান অঞ্চলের সেচ ও বাঁধ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে দুকান ও দারবন্দিখানসহ বিভিন্ন বাঁধে পানি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে। শুধু দুকান ও দারবন্দিখান বাঁধেই ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় ১০ কোটি ঘনমিটার পানি যোগ হয়েছে। সুলায়মানিয়া অঞ্চলের বেশিরভাগ ছোট বাঁধ ও জলাধার ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়েছে।

আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল না হয় সে জন্য প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.