গাজায় টার্গেটেড হামলায় ‘সময়ের কারসাজি’—ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ
গাজায় সাম্প্রতিক লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডে ইসরায়েল ‘সময়ের সঙ্গে ছলচাতুরি’ করেছে বলে নতুন অভিযোগ উঠেছে। আশারকুল আওসাত–এর কাছে মাঠ পর্যায়ের সূত্রগুলো জানায়, ইসরায়েল কয়েকজন হামাস ও ইসলামিক জিহাদ নেতাকে হত্যার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি প্রকাশ করেনি। পরে দক্ষিণ গাজায় এক ফিলিস্তিনি তরুণের গুলিবর্ষণের ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়—এই ঘটনার জবাব দিতেই টার্গেটেড অপারেশন শুরু হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে হত্যাকাণ্ডগুলো ওই ভিডিও প্রকাশের আগেই সম্পন্ন হয়।
গত শনিবার যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবার ইসরায়েলি ড্রোন গাজা শহরের রিমাল এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িতে হামলা চালায়। এতে হামাসের সামরিক শাখা কাসসাম ব্রিগেডের গুরুত্বপূর্ণ নেতা আলা আল–হিদিদি নিহত হন। এরপর ধারাবাহিক বোমাবর্ষণে ২১ ফিলিস্তিনি নিহত ও অন্তত ৮০ জন আহত হন।
হামাস এই যুক্তিকে সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করে, অভিযুক্ত তরুণের পরিচয় প্রকাশের দাবি তোলে। পরে ফিলিস্তিনি সূত্র জানায়, নিহত ওই ব্যক্তির নাম খলিল নাজি (২৮), দেইর আল–বালাহ এলাকার বাসিন্দা। তিনি কোনো সংগঠনের সদস্য ছিলেন না, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিলেন এবং কৃত্রিম পা নিয়ে মানবিক সহায়তা প্রবেশ পথের নিরাপত্তা কাজে জিপ চালাতেন। পরিবারের সূত্র জানায়, একই এলাকায় তার পণ্যের ওপর ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছিল এবং হয়তো সে কারণেই তিনি আবার সেখানে গিয়েছিলেন। হামাস নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্ত করছে।
এদিকে টার্গেটেড হামলায় আলা আল–হিদিদির সঙ্গে তার সহকর্মী খলিল আল–সারিও নিহত হন। পথচারী দুই শিশুও প্রাণ হারায়। হিদিদি কাসসাম ব্রিগেডের অস্ত্র সরবরাহ ও উৎপাদন ইউনিটের দায়িত্বে ছিলেন। চলমান যুদ্ধে তাঁর পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছেন।
নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে আরেকটি হামলায় নিহত হন গালিব আবু শাওয়িশ—কাসসাম ব্রিগেডের নুসেইরাত ব্যাটালিয়নের একটি ইউনিট কমান্ডার। একসঙ্গে তার স্ত্রী, ছেলে, দুই মেয়ে—সহ ১০ জন আত্মীয় নিহত হন।
একই শিবিরে আরেক ড্রোন হামলায় নিহত হন মসজিদ আল–ফারুকের ইমাম ও হামাসের দাওয়া শাখার নেতা মুস্তাফা আবু হাসবুল্লাহ। আর গাজা শহরের নাসের এলাকায় একটি ভবনে বোমাবর্ষণে পাঁচজন নিহত হন, যার মধ্যে ছিলেন ইসলামিক জিহাদের রকেট ইউনিটের সক্রিয় সদস্য আলা আল–খুদরি।
মাঠ পর্যায়ের সূত্র জানায়, ইসরায়েল লক্ষ্যভিত্তিক হামলার সুযোগ খুঁজতে গাজা উপত্যকার আকাশে সার্বক্ষণিক ড্রোন ও নজরদারি বিমান চালাচ্ছে। বিশেষ বাহিনী, স্থানীয় সহযোগী এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত যোদ্ধাদের গতিবিধি শনাক্ত করে টার্গেটেড হত্যাকাণ্ড চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে রাফাহ, খান ইউনুস ও গাজা শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর বোমাবর্ষণ, গোলাগুলি ও ভারী বিস্ফোরণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। পূর্বাঞ্চলের ইয়েলো লাইন সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে।