অস্ট্রেলিয়ায় গাজা যুদ্ধে শুরু থেকে এ পর্যন্ত যেসব ইহুদি বিরোধী হামলা হয়েছে তার সময়রেখা প্রকাশ
অস্ট্রেলিয়ায় অক্টোবর ২০২৩ থেকে ইসরাইলের গাজা হামলার পর থেকে ইহুদি ধর্মীয় স্থান, ভবন ও যানবাহনে একাধিক ইহুদি বিরোধী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে দেয়ালে অবৈধ গ্রাফিতি, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং প্রাণহানিও।
নিউ সাউথ ওয়েলসে সিডনির বন্ডাই বিচে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫-এ সংঘটিত বন্দুক হামলার পর পুলিশ সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। হামলাটি ছিল প্রথম হানুক্কা উৎসবের রাতে, যেখানে কমপক্ষে ১২ জন নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন।
হামলার প্রধান ঘটনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
২৫ মে ২০২৪: মেলবোর্নের বৃহত্তম ইহুদি বিদ্যালয়ের দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকা হয়।
১৩ অক্টোবর ২০২৪: সিডনির একটি ইহুদি বেকারির দেয়ালে হেটগ্রাফিতি এবং “সাবধান” বার্তা পাওয়া যায়।
১৭ অক্টোবর: সিডনির বন্ডাই এলাকায় একটি বিয়ার ফ্যাক্টরির প্রবেশদ্বারে অগ্নিসংযোগ।
২০ অক্টোবর: একই এলাকায় একটি ইহুদি রেস্তোরাঁয় আগুন লাগানো হয়।
২১ নভেম্বর: সিডনির পূর্বাঞ্চলে গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং ভবন ভাঙচুর।
৬ ডিসেম্বর: মেলবোর্নে “আদাস ইস্রায়েল” সিনাগগে আগুন দেয়া হয়, যা পুলিশ সম্ভাব্য সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবে দেখছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজি জানিয়েছেন, ইরানের সরকারের প্রভাব এই হামলাগুলোর পেছনে রয়েছে। বিভিন্ন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে, এবং নিরাপত্তা বাহিনী হামলাগুলো রুখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
২০২৫ সালের প্রথম দিকে পুলিশের বিশেষ টিম গঠন করা হয় ইহুদি বিরোধী অপরাধ মোকাবিলায়, এবং প্রথম গ্রেফতারিও হয়। আইন প্রণয়ন করে হেটস্পিচ ও ধর্মীয় স্থানে বিক্ষোভ বন্ধের বিধান আনা হয়েছে।
১৪ ডিসেম্বর সিডনির বন্ডাই বিচে প্রথম হানুক্কা উৎসবের রাতে বন্দুকধারীর হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ১২ জন নিহত হওয়া এই সিরিজের নিকৃষ্টতম ঘটনা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের গভর্নর ক্রিস মিন্স এই হামলাকে ইহুদি বিরোধী অপরাধের গুরুতর বৃদ্ধি হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং জাতীয় একতার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনাগুলো অস্ট্রেলিয়ার সমাজে গৃহযুদ্ধমুখী পরিবেশ এবং ধর্মীয় সহিংসতার দিকেই ইঙ্গিত করে, যা উদ্বেগজনক।
ছবি: রয়টার্স