ওড়িশায় বড়সড় মাওবাদী বিরোধী অভিযানে নিহত শীর্ষ নেতা গণেশ উইকে, মৃত্যু ছয় জনের
ওড়িশার কান্ধামাল জেলার গভীর জঙ্গলে যৌথ নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মাওবাদী সংগঠনের এক শীর্ষ নেতা-সহ মোট ছয় জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গণেশ উইকে, যাঁর মাথার উপর এক কোটিরও বেশি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে বেলঘর থানা এলাকার গুম্মা জঙ্গলে প্রথম দফায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের গুলির লড়াই হয়। সেই সংঘর্ষে ছত্তিশগড়ের দুই মাওবাদী নিহত হন।
এর পর বৃহস্পতিবার ভোরে চাকাপাদ থানা এলাকার রাম্পা জঙ্গলে দ্বিতীয় দফায় আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। সেখানে গণেশ উইকে-সহ আরও চার জন মাওবাদীর মৃত্যু হয়।
নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে দুটি ইনসাস রাইফেল ও একটি ০.৩০৩ রাইফেলসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত চার জনের মধ্যে দু’জন মহিলা মাওবাদীও রয়েছে।
গণেশ উইকে তেলেঙ্গানার নালগোন্ডা জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং সংগঠনের ভেতরে তিনি পাক্কা হনুমন্তু, রাজেশ তিওয়ারি, চামরু ও রূপা নামেও পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ওড়িশা অঞ্চলে মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনার মূল নেতৃত্বে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওড়িশার পুলিশ মহাপরিচালক ওয়াই বি খুরানিয়া বলেন, এই অভিযানে মাওবাদী সংগঠনের শক্ত ভিত ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। কান্ধামাল ও গঞ্জাম জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই অভিযানের প্রশংসা করে বলেছেন, দেশকে মাওবাদী-মুক্ত করার লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝিও এই অভিযানের সাফল্যে নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি