লিবিয়ার উপকূলে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি: ডুবে গেল নৌকা, অন্তত ৪২ অভিবাসীর মৃত্যু আশঙ্কা
ভয়াবহ এক সমুদ্র দুর্ঘটনায় লিবিয়ার উপকূলে ইউরোপগামী অভিবাসীদের বহনকারী একটি রাবার নৌকা ডুবে অন্তত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, নৌকাটিতে মোট ৪৯ জন ছিলেন; এর মধ্যে মাত্র সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে।
উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা জানান, তারা ছয় দিন ধরে খোলা সমুদ্রে ভেসে ছিলেন। ঘটনাটি ঘটেছে লিবিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের আল বুড়ি তেলক্ষেত্রের কাছে। নিখোঁজ ৪২ জনের আর জীবিত থাকার আশা করা যাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, মৃত ও নিখোঁজ অভিবাসীদের বেশিরভাগই সুদান, নাইজেরিয়া, ক্যামেরুন এবং সোমালিয়ার নাগরিক।
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া ইউরোপে যাওয়া অভিবাসীদের জন্য একটি প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। মানব পাচারকারীরা ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক রুট ব্যবহার করে প্রতিদিন শত শত অভিবাসীকে ইউরোপে পাঠানোর চেষ্টা করছে।
আইওএম-এর তথ্যমতে, শুধু এই বছরই মধ্য ভূমধ্যসাগরে অন্তত এক হাজারেরও বেশি অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ২,৪৫২ — চলতি বছর সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।
সংস্থাটি বলেছে, “সুরমান ও ল্যাম্পেডুসা উপকূলে সাম্প্রতিক নৌকাডুবির মতো এই দুর্ঘটনাও আবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে— ভূমধ্যসাগরীয় পথটি বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসন রুট।”
গত মাসে ত্রিপলির পশ্চিম উপকূলে উদ্ধার করা হয়েছিল ৬১ জন অভিবাসীর মৃতদেহ। সেপ্টেম্বরে ৭৫ জন সুদানি শরণার্থী বহনকারী আরেকটি নৌকায় আগুন ধরে কমপক্ষে ৫০ জন মারা যান।
অভিবাসীদের দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘও। মঙ্গলবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ব্রিটেন, স্পেন, নরওয়ে ও সিয়েরা লিওনসহ একাধিক দেশ লিবিয়াকে আহ্বান জানিয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কুখ্যাত সেইসব আটককেন্দ্র অবিলম্বে বন্ধ করতে, যেখানে অভিবাসী ও শরণার্থীদের ওপর নির্যাতন, অপমান এবং হত্যার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।