তিন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় বিশেষ নজর দিচ্ছে তৃণমূল
মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুর— এক সময়ে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত এই তিন জেলা এখন সংখ্যালঘু ভোটকে ঘিরে তৃণমূলের কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই অঞ্চলগুলিকে ঘিরেই সতর্কভাবে সংগঠন সাজাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মূল কারণ
তিন জেলাতেই ধর্মীয় মেরুকরণের আবহ প্রবল।
তৃণমূলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে।
বিরোধী বাম ও কংগ্রেস নতুন করে ভিত্তি গড়ার চেষ্টা করছে।
সংগঠনে রদবদল
মুর্শিদাবাদকে সাংগঠনিক ভাবে বহরমপুর ও জঙ্গিপুর— এই দুই ভাগে ভাগ করে কাজ চালায় তৃণমূল। সাম্প্রতিক রদবদলে দেখা গিয়েছে, কয়েকটি ব্লকে সভাপতি ঘোষণা না করে কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেমন— সাগরদিঘি ও লালগোলা। স্থানীয় কোন্দল মেটাতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নেতৃত্বের ভূমিকা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে জেলা ও ব্লক স্তরে নতুন করে সমীকরণ সাজানো হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দিচ্ছেন। দলের ভিতরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ঠেকাতে এই পদক্ষেপকে অনেকেই ‘সতর্ক রাজনীতি’ বলে ব্যাখ্যা করছেন।
চ্যালেঞ্জ ও পরিস্থিতি
২০২৩ সালের সাগরদিঘি উপনির্বাচনে তৃণমূলের হার দলকে সতর্ক করেছে।
উত্তর দিনাজপুরে বিজেপির উত্থান চিন্তার কারণ।
মালদহে দীর্ঘদিন ধরে চলা গোষ্ঠীসংঘর্ষে সংগঠন দুর্বল হয়েছে।
ভোটের সমীকরণ
সংখ্যালঘু ভোটকে শক্তি হিসাবে ব্যবহার করতে তৃণমূলের এক দশকেরও বেশি সময় লেগেছে। ২০১১-১৬ পর্যন্ত এই তিন জেলার সংখ্যালঘুদের বড় অংশ বাম-কংগ্রেসের দিকে ছিল। ধীরে ধীরে পরিবর্তন ঘটে ২০১৯ লোকসভা ও ২০২১ বিধানসভা ভোটে। তবে বিজেপিও মেরুকরণকে কাজে লাগিয়ে এখানে ভোট শতাংশ বাড়িয়েছে।
উপসংহার
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত তিন জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল। তৃণমূল সংখ্যালঘু ভোট ধরে রাখতে এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামাল দিতে মরিয়া। বিরোধীরাও এখানে পা রাখার সুযোগ খুঁজছে। ফলে আসন্ন ভোটে এই অঞ্চলগুলিই হয়ে উঠতে পারে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু।