মাদুরোর পদত্যাগের আহ্বান ট্রাম্পের, ভেনেজুয়েলা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়া উত্তেজনা তীব্র
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দেশটির তেল সম্পদকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা নতুন করে বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর কাছে ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা মাদুরোর জন্য সরে দাঁড়ানোই সবচেয়ে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করলে ভবিষ্যতে মাদুরোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এই বক্তব্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে লক্ষ্য করে নৌ নজরদারি ও অভিযান জোরদার করেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তেল শিল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নষ্ট হয়েছে এবং এই কাঠামো পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিলের মধ্যে টেলিফোন আলোচনায় মার্কিন নৌ তৎপরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। রাশিয়ার মতে, ক্যারিবীয় অঞ্চলে এই ধরনের অভিযান আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
এই পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার অনুরোধে রাশিয়া ও চীন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহ্বানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কারাকাসের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র কার্যত দেশটির বিরুদ্ধে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচার দমনের নামে নৌ অভিযান পরিচালনা করছে। এসব অভিযানে প্রাণহানির অভিযোগও উঠেছে। নিহতদের পরিবারের দাবি, অনেক ভুক্তভোগী সরাসরি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
এদিকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো এক বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল খাতে অবরোধ আরোপ করা হলে তা শুধু দেশটির নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কূটনৈতিক টানাপোড়েন ক্রমেই গভীর হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।