আসিয়ান সম্মেলনে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি — “অনেক প্রজন্ম ধরে শক্তিশালী অংশীদার থাকবে যুক্তরাষ্ট্র”
কুয়ালালামপুর, ২৬ অক্টোবর ২০২৫ — দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির নেতাদের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার ঘোষণা করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র “অনেক প্রজন্ম ধরে” এ অঞ্চলের শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে থাকবে।
কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র–আসিয়ান সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকা এখন তার স্বর্ণযুগে রয়েছে। আমাদের বার্তা পরিষ্কার — দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণভাবে আছি এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে পাশে থাকব।”
তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি “বৃহৎ বাণিজ্য চুক্তি” স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পথে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে এটি ট্রাম্পের প্রথম মালয়েশিয়া সফর। তাঁর বিমানের সঙ্গে আকাশে ছিল দুইটি মালয়েশিয়ান এফ-১৮ যুদ্ধবিমান। কুয়ালালামপুরে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে লাল গালিচায় হাঁটতে হাঁটতে ট্রাম্পকে স্বাগত জানান স্থানীয় নৃত্যদল। মজার ছলে তিনি নৃত্যদলের সঙ্গে প্রায় ১০ সেকেন্ড নাচেন।
ট্রাম্প কয়েক দিন এশিয়ায় অবস্থান করবেন। আগামী বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ায় তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন, যেখানে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধ নিয়ে আলোচনা হবে। তাঁর সফরে জাপানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই বছরের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়ায় পুনঃপ্রতিশ্রুতির প্রতীক।
আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা শেষে ট্রাম্প সাঁজোয়া ক্যাডিলাক গাড়িতে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে শহরের কেন্দ্রের দিকে রওনা দেন। শহরের অন্য প্রান্তে কয়েকজন বিক্ষোভকারী “ট্রাম্পকে সরাও” লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানান।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাম্প কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেন — যা জুলাই মাসে দুই দেশের সীমান্তে সংঘর্ষের পর তাঁর মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হয়েছিল। সেই সংঘর্ষে ৪০ জনেরও বেশি নিহত হন এবং কয়েক লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।