তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির অভিবাসন ‘স্থায়ী ভাবে’ বন্ধের সঙ্কেত ট্রাম্পের
আমেরিকায় অভিবাসন নীতি নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, দেশের নিরাপত্তা ও নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে “তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির” অভিবাসন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার পথে এগোচ্ছে তাঁর প্রশাসন। যদিও কোন কোন দেশকে তিনি এই তালিকায় ফেলছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
হোয়াইট হাউস চত্বরে সাম্প্রতিক গোলাগুলিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড নিহত হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্পের ক্ষোভ আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন আফগানিস্তানের এক নাগরিক। ঘটনার পর থেকেই তিনি আফগানিস্তান থেকে বিপুল হারে অভিবাসী প্রবেশের অভিযোগ তুলছেন।
সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প একটি ছবি শেয়ার করে দাবি করেন, আফগানিস্তান থেকে প্রচুর মানুষ বিভিন্ন পথে আমেরিকায় ঢুকে পড়ছেন। ছবিটিকে তিনি ‘অব্যবস্থাপূর্ণ পরিবহণ প্রক্রিয়ার নিদর্শন’ বলে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময়ে পর্যাপ্ত যাচাই না করেই হাজার হাজার মানুষকে দেশে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে অভিবাসন নীতিতে আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য,
“যুক্তরাষ্ট্রে যাঁরা অবৈধ ভাবে ঢুকেছেন বা দেশের মূল্যবোধের সঙ্গে খাপ খায় না, তাঁদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির অভিবাসন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা হবে।”
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, মার্কিন নাগরিক নন— এমন ব্যক্তিদের জন্য বেশ কিছু সরকারি সুবিধাও বন্ধ করা হতে পারে। পাশাপাশি এমন ব্যক্তিদের দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হবে, যাঁরা মার্কিন সমাজের নিরাপত্তা বা সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে হয়।
‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ শব্দের প্রেক্ষাপট
ঠান্ডা যুদ্ধের সময়ে পশ্চিমা ব্লক বা সমাজতান্ত্রিক ব্লকের কোনওটিতেই যুক্ত হয়নি যেসব দেশ— তাদেরই মূলত “তৃতীয় বিশ্ব” বলা হত। বর্তমান সময়ে এই শব্দবন্ধটি খুব কমই ব্যবহৃত হয়, তবে অর্থনৈতিকভাবে অস্থির বা দারিদ্র্যপীড়িত কয়েকটি দেশকে বোঝাতে কেউ কেউ এখনও এই শব্দ ব্যবহার করেন। ট্রাম্প কোন কোন দেশকে এই শ্রেণিতে ফেলছেন, তা যদিও তিনি এখনও স্পষ্ট করেননি।