Tranding

ট্রাম্পের সতর্কবার্তা: নাইজেরিয়ার খ্রিস্টানরা ‘অস্তিত্বের হুমকির’ মুখে

ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানরা বর্তমানে ‘অস্তিত্বের হুমকির’ মুখে রয়েছে। শুক্রবার তার এই মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দক্ষিণপন্থী মহলে “খ্রিস্টান গণহত্যা” নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। খবর এএফপি’র।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামাজিক মাধ্যমে নাইজেরিয়ায় “খ্রিস্টান গণহত্যা” ও “নির্যাতন” সংক্রান্ত নানা দাবি ছড়িয়ে পড়েছে, যা ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

আফ্রিকার জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ায় মুসলমান ও খ্রিস্টান উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংসতা দেখা দিয়েছে, যেখানে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের দাবি, “নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টান ধর্ম আজ অস্তিত্বের সংকটে।”

নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে ট্রাম্প বলেন, “হাজার হাজার খ্রিস্টানকে হত্যা করা হচ্ছে, এবং চরমপন্থীরাই এই গণহত্যার জন্য দায়ী।” তবে তিনি এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

তিনি আরও বলেন, তিনি নাইজেরিয়াকে “বিশেষ উদ্বেগের দেশ” হিসেবে দেখছেন — যা মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এমন দেশগুলোর তালিকায় পড়ে, যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘন ঘটে।

নাইজেরিয়া প্রায় সমানভাবে মুসলমান-প্রধান উত্তর ও খ্রিস্টান-প্রধান দক্ষিণে বিভক্ত।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সন্ত্রাসী সংগঠন বোকো হারাম গত ১৫ বছর ধরে সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত ও দুই মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

উত্তর-পশ্চিমে “ডাকাত গোষ্ঠী” নামে পরিচিত সশস্ত্র দলগুলো নিয়মিত গ্রাম আক্রমণ, হত্যা ও অপহরণ চালায়।

এছাড়া মধ্য নাইজেরিয়ায় মুসলিম পশুপালক ও খ্রিস্টান কৃষকদের সংঘর্ষ প্রায়ই ধর্মীয় রূপ নেয়, যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে জমি দখল ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি এই সংঘাতের মূল কারণ।

ট্রাম্পের উপদেষ্টা মাশাদ বোলস বলেন, “বোকো হারাম ও আইএস গোষ্ঠী খ্রিস্টানদের তুলনায় বেশি মুসলমানকে হত্যা করছে।”

অ্যাকলিড (ACLED) নামের এক গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে খ্রিস্টানদের ওপর অন্তত ৩৮৯টি হামলায় ৩১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর একই সময়ে মুসলমানদের ওপর ১৯৭টি হামলায় নিহত হয়েছে ৪০০ জনেরও বেশি।

ট্রাম্পের মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন কংগ্রেসে নাইজেরিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষে লবিং কার্যক্রম জোরদার হয়েছে।

‘মোরান গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিস’ নামের একটি মার্কিন সংস্থা, যা প্রবাসী “বিয়াফ্রা প্রজাতন্ত্র” সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছে, তারা মার্চ মাসে কংগ্রেস সদস্যদের উদ্দেশে চিঠি লিখে নাইজেরিয়ায় “খ্রিস্টানদের ওপর নির্যাতনের” বিষয়ে সতর্ক করেছিল।

উল্লেখ্য, বিয়াফ্রা ছিল নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী রাষ্ট্র, যা ১৯৬৭ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল, কিন্তু ১৯৭০ সাল পর্যন্ত চলা গৃহযুদ্ধের পর তা বিলুপ্ত হয়।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.