ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা গাজা যুদ্ধ নিয়ে নতুন আলোচনার দুয়ার খুলল
গাজা যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। জুলাইয়ে দোহা আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরে দাঁড়ানোর পর থেকে অচলাবস্থায় থাকা মধ্যস্থতাকারী প্রচেষ্টা আবারও সক্রিয় হচ্ছে।
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভ জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে আরব ও ইসলামি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ২১ দফার একটি প্রস্তাব দেন। এর মধ্যে রয়েছে:
স্থায়ী যুদ্ধবিরতি,
ইসরায়েলি সেনাদের ধাপে ধাপে প্রত্যাহার,
সব বন্দির মুক্তি,
'‘হামাসবিহীন’’ অন্তর্বর্তী প্রশাসন,
এবং আরব ও ইসলামি দেশগুলোর অংশগ্রহণে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন।
তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈঠকের আগে স্পষ্ট করেছেন যে তিনি ‘‘ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র মেনে নেবেন না’’ এবং ‘‘যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণ অব্যাহত রাখার প্রয়োজন’’ নিয়ে আলোচনা করবেন।
ভিন্নমত
কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনায় ইতিবাচক দিক থাকলেও কিছু ‘‘ফাঁদ’’ রয়েছে, যেমন—ইসরায়েলের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ এবং ফিলিস্তিনিদের সম্ভাব্য উচ্ছেদের ধারা।
ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক ইব্রাহিম মাদহুন অভিযোগ করেছেন, ‘‘ট্রাম্প সময়ক্ষেপণ করছেন, যা ইসরায়েলের দখলদারিকে আরও শক্তিশালী করবে।’’
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বৈঠককে ‘‘ফলপ্রসূ’’ বলেছেন, আর মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এটিকে ‘‘শান্তির পথে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি’’ বলে উল্লেখ করেছেন। কাতারের আমিরও ট্রাম্পকে দ্রুত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
হামাস আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও সংগঠনের সূত্র জানিয়েছে যে তারা ‘‘ইতিবাচকভাবে’’ আলোচনায় বসতে প্রস্তুত এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে নমনীয় মনোভাব দেখাবে।