Tranding
আর্ন্তজাতিক / September 21, 2025

ট্রাম্পের নতুন নির্দেশে এইচ-১বি ভিসায় এক লক্ষ ডলারের অতিরিক্ত বোঝা

বঙ্গ দর্পণ: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এইচ-১বি ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে গেলে মার্কিন সংস্থাগুলিকে এককালীন এক লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৮ লক্ষ টাকা) সরকারের হাতে জমা দিতে হবে। শুক্রবার ট্রাম্প এই নির্দেশে স্বাক্ষর করার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।

 

হোয়াইট হাউসের মতে, বিদেশ থেকে কর্মী আনার পরিবর্তে মার্কিন সংস্থাগুলিকে স্থানীয় আমেরিকানদেরই প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলতে হবে। এতে স্থানীয়দের চাকরির সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি, নতুন নিয়মে বিদেশ থেকে যাঁদের আনা হচ্ছে, তাঁদের প্রকৃত দক্ষতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও বাড়তি নিশ্চয়তা তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, সংস্থাগুলি এই খরচ কর্মীদের ঘাড়েই চাপিয়ে দিতে পারে।

 

এইচ-১বি ভিসা কী?

 

এইচ-১বি ভিসা হল একটি অ-অভিবাসী ভিসা, যা ১৯৯০ সালে চালু হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের দক্ষ পেশাদাররা সাময়িক সময়ের জন্য মার্কিন সংস্থাগুলিতে কাজ করার সুযোগ পান। সাধারণত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও গণিত (STEM) ক্ষেত্রেই এই ভিসার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। শুরুতে তিন বছরের জন্য ভিসা মঞ্জুর হয়, যা সর্বোচ্চ ছয় বছর পর্যন্ত বাড়ানো যায়। এর মধ্যে কর্মীরা গ্রিন কার্ডের জন্যও আবেদন করতে পারেন।

নতুন নিয়মে খরচ কত?

এখন পর্যন্ত এই ভিসার জন্য আবেদন করতে তিন বছরের জন্য ১,৭০০ থেকে ৪,৫০০ মার্কিন ডলার (প্রায় দেড় থেকে চার লক্ষ টাকা) খরচ হত। কিন্তু ট্রাম্পের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, সংস্থাগুলিকে এককালীন এক লক্ষ ডলার অতিরিক্ত দিতে হবে। ফলে যদি এই অর্থ কর্মীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়, তবে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত গুনতে হবে আবেদনকারীদের। অর্থাৎ এক ধাক্কায় খরচ বেড়ে যাচ্ছে প্রায় ৮৮ গুণ।

ভারতের উদ্বেগ

প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক ভারতীয় এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করেন এবং তাঁদেরই সর্বাধিক অনুমোদন দেওয়া হয়। শুধুমাত্র গত বছরেই মোট ভিসার ৭১ শতাংশ ভারতীয়দের হাতে গিয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চিন, মাত্র ১১.৭ শতাংশ নিয়ে। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে অ্যামাজ়ন একাই ১২ হাজার এইচ-১বি ভিসার আবেদন মঞ্জুর করেছে। মাইক্রোসফ্‌ট ও মেটা অনুমোদন দিয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার করে আবেদন। নয়াদিল্লি ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারত সরকারের বক্তব্য, এই পদক্ষেপের ফলে হাজার হাজার ভারতীয়র পারিবারিক জীবনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

মার্কিন ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের একাধিক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই নির্দেশ আইনত কতটা বৈধ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাঁদের মতে, প্রেসিডেন্ট শুধুমাত্র প্রক্রিয়াকরণের খরচ সামান্য বাড়াতে পারেন, এত বড় অঙ্ক চাপানোর অধিকার নেই। ফলে এ নিয়ে মামলা হওয়াও প্রায় নিশ্চিত। তবে অন্য একটি অংশ মনে করছে, প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপ আইনত বৈধ। এ নিয়েই এখন তীব্র বিতর্ক চলছে আমেরিকায়।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.