ট্রাম্পের চাপ, ভারতের পাশে রাশিয়া
অনলাইন, বঙ্গ দর্পণ:ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক মহলে বিচ্ছিন্ন করার ডাক দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ জন্য ইউরোপীয় দেশগুলির কড়া পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। একই সময়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ভারতের অনড় অবস্থানের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, দিল্লি–মস্কো সম্পর্ককে ব্যাহত করার চেষ্টা কখনও সফল হবে না। ট্রাম্প সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, “ইউরোপের দেশগুলি এখনও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনছে। আমি সেটা চাই না। রাশিয়ার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়। আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া দরকার এবং ইউরোপকেও তাতে সঙ্গ দিতে হবে।” ভারতের ভূমিকা ২০২২ সালে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে সস্তা তেল কিনতে শুরু করে। বর্তমানে চিনের পরে ভারতই রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। এই অবস্থানের বিরোধিতা করে ট্রাম্প ভারতের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। তবে নয়াদিল্লি নিজের বাণিজ্যনীতি বদলায়নি। রুশ বিদেশ মন্ত্রক সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, “ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক কঠিন সময়েও স্থিতিশীল। আমেরিকা ও নেটোর চাপের মুখেও ভারত নতিস্বীকার করেনি। এই অবস্থান দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতিফলন।” আমেরিকার অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার মাধ্যমে ভারত সরাসরি মস্কোর যুদ্ধযন্ত্রকে অর্থ জোগাচ্ছে। এমনকি ইউক্রেনের প্রাণহানির দায়ও আংশিকভাবে ভারতের উপর চাপিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে নয়াদিল্লি এই যুক্তি খারিজ করেছে এবং পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে, একই কারণে চিন বা অন্য দেশের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না আমেরিকা? ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্প্রতি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই ঘনিষ্ঠতা ট্রাম্পের অস্বস্তি বাড়ালেও পরে তাঁর সুর কিছুটা নরম হয়। এখন তিনি মূলত ইউরোপীয় দেশগুলির ওপর রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য চাপ বাড়াচ্ছেন।