তুরস্কে অজগুর ওজেল বনাম এরদোয়ান: ট্রাম্প সাক্ষাৎকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব
ইস্তানবুল/আঙ্কারা | ২১-২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
তুরস্কের বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রধান বিরোধীদল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)-র প্রধান অজগুর ওজেল প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোয়ান-এর প্রতি কঠোর সমালোচনা চালান, আসন্ন ওয়াশিংটন সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে বৈঠক ঘিরে।
আঙ্কারায় দলের ২২তম বিশেষ সম্মেলনে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ওজেল বলেন,
“এরদোয়ানের জনসমর্থন কমছে। জনগণের ভরসার পরিবর্তে তিনি ট্রাম্পের উপর ভরসা খুঁজছেন। তার রাজনীতি এখন জাতির নয়, বরং ট্রাম্পকেন্দ্রিক।”
তিনি অভিযোগ করেন, এরদোয়ান গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যু অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যবহার করছেন, যেমনভাবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও তা করছেন। তবে ট্রাম্প যখন নেতানিয়াহুকে “যুদ্ধের নায়ক” বলেন, তখন এরদোয়ান নীরব থাকেন বলে দাবি করেন ওজেল।
গোপন বৈঠক নিয়ে বিতর্ক
ওজেল আরও জানান, ইস্তানবুলের দোলমাবাহচে প্রাসাদে এরদোয়ান নাকি গোপনে ট্রাম্পপুত্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নিশ্চিত করতে। তিনি অভিযোগ তোলেন, এর বিনিময়ে তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বার্তা পাঠানো হয়েছিল যে, ৩০০টি বোয়িং বিমান কেনা ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এরদোয়ানের জবাব
এরদোয়ান এসব অভিযোগ নাকচ করে বলেন,
“আমরা যদি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করি, তবে তার ছেলের সঙ্গে নয়, সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গেই করব। এ সবই কল্পনা।”
তিনি জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা শিল্প অগ্রাধিকার পাবে। এর মধ্যে বোয়িং বিমান, এফ-১৬ চুক্তি ও এফ-৩৫ প্রকল্প নিয়ে আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এটি হবে ছয় বছর পর এরদোয়ানের যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং প্রথমবারের মতো ট্রাম্প-এরদোয়ান শীর্ষ বৈঠক, যা বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
তুরস্কের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি
এদিকে, বিশেষ সম্মেলনে অজগুর ওজেল তৃতীয়বারের মতো সিএইচপি-র সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ১১২৭ জন প্রতিনিধির মধ্যে ৯১৭ জন ভোট দেন, যার মধ্যে ৮৩৫ ভোট পেয়ে ওজেল আবারও সভাপতি হন।
তিনি অভিযোগ করেন, এরদোয়ান নেতৃত্বাধীন সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে এবং বিরোধী দলগুলিকে আদালতের মাধ্যমে দমন করছে। বিশেষভাবে তিনি উল্লেখ করেন, গত মার্চে ইস্তানবুলের মেয়র ও বিরোধী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী একরেম ইমামওগলুর গ্রেপ্তারকে “গণতন্ত্রে অভ্যুত্থান” হিসেবে।
ওজেল বলেন,
“সরকার চায় তুরস্কে নির্বাচনহীন একদলীয় ব্যবস্থা চালু হোক। কিন্তু আমরা জাতির পক্ষ থেকে গণতন্ত্র রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাব।”
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট
একই সময়ে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ বেজশকিয়ানকে তাঁর সমর্থকরা জাতিসংঘ অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতে উৎসাহিত করছেন। অন্যদিকে, ইরান তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইকুয়েডরের সিদ্ধান্তের, যেখানে দেশটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
সংক্ষিপ্তসার: এরদোয়ান-ট্রাম্প বৈঠক ঘিরে তুরস্কের রাজনীতি উত্তপ্ত। বিরোধী নেতা অজগুর ওজেল এরদোয়ানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর রাজনীতি ও ফিলিস্তিন ইস্যু ব্যবহারের অভিযোগ আনেন। এরদোয়ান পাল্টা জবাব দিয়ে বৈঠকে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা জানান। একই সময়ে, ইরানকেও ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে।