ব্রিটেন-কানাডা-অস্ট্রেলিয়ার স্বীকৃতি, ফিলিস্তিন প্রশ্নে নতুন মোড়
লন্ডন/নিউইয়র্ক, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিল ব্রিটেন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। রোববার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের প্রাক্কালে এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রশ্নে প্রেক্ষাপট
১৯৮৮ সালে পিএলও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। দ্রুতই বিশ্বের দক্ষিণ গোলার্ধের বহু দেশ সেই স্বীকৃতি দেয়। বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের মধ্যে প্রায় ১৫০টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে পূর্ণ সদস্যপদ এখনো অধরা, কারণ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া তা সম্ভব নয়। আর সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো রয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সীমিতভাবে পশ্চিম তীরের কিছু অংশে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ চালায়, কিন্তু গাজায় ২০০৭ সাল থেকে হামাস কার্যত শাসন করছে। জেরুজালেমের ইসরায়েলি দখল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়, ফলে অধিকাংশ দেশ তাদের দূতাবাস রেখেছে তেল আবিবে।
স্বীকৃতির লক্ষ্য
ব্রিটেন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতে, এই স্বীকৃতি কেবল প্রতীকী নয়; বরং ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে যাতে তারা গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করে, পশ্চিম তীরে নতুন বসতি গড়া থামায় এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়ায় ফেরে। ফ্রান্স ও বেলজিয়ামও একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সংস্কারমুখী হতে এবং গাজা শাসনে আরও কার্যকর অংশীদার হতে সাহায্য করবে।
বাস্তব প্রভাব কতটা?
বিশ্লেষকরা বলছেন, পূর্ণ জাতিসংঘ সদস্যপদ না পাওয়া পর্যন্ত ফিলিস্তিনের জন্য এই স্বীকৃতির কূটনৈতিক প্রভাব সীমিতই থাকবে। ইসরায়েল এখনো তাদের সীমান্ত, বাণিজ্য ও যাতায়াতের সব পথ নিয়ন্ত্রণ করে। ফিলিস্তিনের নিজস্ব বিমানবন্দর বা সমুদ্রবন্দর নেই।
তবে ফিলিস্তিনপন্থীরা মনে করছেন, এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সমতার ভিত্তিতে নতুন অংশীদারিত্বের পথ খুলে দেবে।
প্রতিক্রিয়া: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “পশ্চিম তীরে কোনোদিন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না।” তার দাবি, এই স্বীকৃতি মূলত ২০২৩ সালের হামলার জন্য হামাসকে পুরস্কৃত করার সমান।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় মিত্রদের এই সিদ্ধান্তে প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছে এবং কয়েকজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যাতে তারা জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নিতে না পারেন।
ফিলিস্তিনের প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের স্থায়ী প্রতিনিধি রিয়াদ মানসুর স্বীকৃতিকে “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, এটি জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার পথ সুগম করবে।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও তিন পশ্চিমা দেশের স্বীকৃতিকে “ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির পথে পদক্ষেপ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সামনের পথ
আজ (সোমবার) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সৌদি আরব ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে “দুই রাষ্ট্র সমাধান” বিষয়ক বিশেষ সম্মেলন বসছে। সেখানে নবস্বীকৃত দেশগুলোর নেতারা বক্তব্য রাখবেন।
তবে ইসরায়েল ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছে, তারা এই পদক্ষেপকে কোনোভাবেই মেনে নেবে না। ফলে, এই স্বীকৃতির পরও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথ এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেল।