Tranding
আর্ন্তজাতিক / December 15, 2025

ন্যাটোতে যোগদানের লক্ষ্য থেকে সরে আসার ইঙ্গিত ইউক্রেনের

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক সমাধানের পথে বড় ইঙ্গিত দিল ইউক্রেন। ন্যাটো সামরিক জোটে যোগদানের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য থেকে সরে আসার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ বিষয়ে জার্মানির বার্লিনে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন তিনি। আলোচনা পর্ব সোমবারও অব্যাহত থাকার কথা।

বৈঠকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ অংশ নেন। আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি জানান, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। যদিও বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি।

জেলেনস্কির উপদেষ্টা দিমিত্রি লিটভিন জানান, বৈঠক শেষে আলোচনার খসড়া নথিগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রেসিডেন্ট সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন। তিনি আরও বলেন, দুই পক্ষ পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা করে পরবর্তী দফায় আবার বসার সিদ্ধান্ত নেয়।

আলোচনার আগে জেলেনস্কি পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে শক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিনিময়ে ন্যাটোতে যোগদানের লক্ষ্য পরিত্যাগের প্রস্তাব দেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইউক্রেনের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। এতদিন রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবিলায় ন্যাটো সদস্যপদকে কিয়েভের প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছিল, যা দেশটির সংবিধানেও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে ন্যাটো ইস্যুতে নমনীয়তার ইঙ্গিত দিলেও ইউক্রেন এখনো রাশিয়ার কাছে নিজেদের ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার প্রশ্নে অনড় অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্টিভ উইটকফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, শান্তির জন্য একটি বহুমুখী পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা কাঠামোসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এই আলোচনার আয়োজন করেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। সূত্রের খবর, তিনি সূচনালগ্নে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে বৈঠক শুরু করলেও পরে আলোচনা থেকে সরে যান। এদিকে সোমবারের বৈঠকে অংশ নিতে ইউরোপের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা জার্মানিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সাংবাদিকদের জানান, শুরু থেকেই ইউক্রেন প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চয়তার জন্য ন্যাটো সদস্যপদের পথে এগোতে চেয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের সমর্থন না পাওয়ায় বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তি, ন্যাটোর আর্টিকল ফাইভের সমতুল্য সুরক্ষা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি কানাডা ও জাপানের মতো রাষ্ট্রগুলোর নিশ্চয়তাই ভবিষ্যতে নতুন করে রুশ আগ্রাসন ঠেকানোর বাস্তব ভিত্তি হতে পারে।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.