রুশ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় জোরপূর্বক সেনা নিয়োগ এড়াতে ইউক্রেনীয় তরুণদের পলায়ন
রাশিয়ার দখলে থাকা দক্ষিণ ও পূর্ব ইউক্রেনের অঞ্চলে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের চাপ বাড়ায় অনেক তরুণ পালানোর চেষ্টা করছেন। তাদেরই দু’জন—দাভিদ ও নিকোলাই—কীভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি সত্ত্বেও শহর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, তা তুলে ধরেছেন।
মাত্র ১৯ বছরের দাভিদ জানান, রুশ নিরাপত্তা বাহিনীর ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি মনে করেছিলেন, হয়তো আর মুক্তি পাবেন না। তাকে বারবার বলা হচ্ছিল, তাকে আবার দখলকৃত মারিউপোল শহরে ফেরত পাঠানো হবে—যেখানে রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ নিশ্চিত।
রুশ নিয়ন্ত্রণে থাকা এই উপকূলীয় শহরে তারা তিন বছর ধরে বাস করছিলেন। সম্প্রতি সেনাবাহিনীতে যোগদানের নোটিশ পাওয়ার পর বন্ধুসহ পালানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু শহর ছাড়ার পথে একটি চেকপোস্টে রুশ বাহিনী তাদের মাদক পাচারের মিথ্যা অভিযোগে আটকায় এবং কিয়েভের দিকে গেলে গ্রেপ্তারের হুমকি দেয়।
খবরে জানা যায়, দখলকৃত এলাকায় স্কুলগুলোও যুবকদের রুশ সামরিক কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। দাভিদের বর্ণনায়, তাদের স্কুলে নতুন করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ছবি টাঙানো হয় এবং ছাত্রদের “রাশিয়ার ভবিষ্যৎ রক্ষক” বলে আখ্যা দেওয়া হয়।
রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ইউক্রেনপন্থী মত প্রকাশ করাই ঝুঁকিপূর্ণ; নিজের ইউক্রেনীয় পরিচয় দেখানোর জন্যও শাস্তির ভয় থাকে। তবুও দুই তরুণ গোপনে অনলাইনে ইউক্রেনীয় পাঠক্রম পড়া চালিয়ে যান।
নিয়োগের কাগজ হাতে পাওয়ার পর তারা শহর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিকোলাই বলেন, “নিজ দেশের সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব—এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”
ইউক্রেনীয় সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দখলকৃত অঞ্চলগুলো থেকে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার তরুণকে রাশিয়া সেনা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। অনেককে চাপ দিয়ে পুরো সময়ের সামরিক চুক্তিতেও সই করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শহর ছেড়ে যাওয়ার সময় দাভিদের চোখে পানি আসে। তিনি বলেন, “নিজ শহর ছেড়ে পালানো খুব কষ্টের, কিন্তু অন্য কোনো পথ ছিল না।”
চেকপোস্টে তাদের আলাদা কক্ষে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ফোন থেকে ছবি মুছে ফেলার কারণ জানতে চাওয়া হয় এবং মাদক রেখে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের যেতে দেওয়া হয়।
এদিকে দখলকৃত এলাকায় রাশিয়া সেনা নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও কঠোর করছে। দাভিদের এক বন্ধু পালাতে চাইলেও পাসপোর্ট না থাকায় পেরেছে না। নতুন পাসপোর্ট তুলতে গেলে তাকে স্থানীয় সামরিক অফিসে যেতে হয়—যেখানে তাকে তৎক্ষণাত নিয়োগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
দাভিদের ভাষায়—“তার পক্ষে পালানো প্রায় অসম্ভব।”