জাতিসংঘ: “জলবায়ু সংকটই আমাদের যুগের সবচেয়ে বড় হুমকি” — বেলেম জলবায়ু সম্মেলনে সতর্কবার্তা
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও জলবায়ু পরিবর্তনকেই বর্তমান যুগের “সবচেয়ে বড় হুমকি” হিসেবে উল্লেখ করলেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক। ব্রাজিলের বেলেম শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (COP30) সফরের শুরুতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
৩.৬ বিলিয়ন মানুষ ঝুঁকিতে
জার্মান সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেয়ারবক বলেন,
“বিশ্বের প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন মানুষ—অর্থাৎ বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি—আজ জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবের মুখে। খরা, বন্যা, তীব্র তাপদাহ, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা—সব মিলিয়ে এটি দুর্ভিক্ষ, দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার এক দুষ্টচক্র তৈরি করছে।”
“বিকল্প নেই, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি”
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে জলবায়ু সম্মেলনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন—
“জলবায়ু বৈজ্ঞানিক সত্য অস্বীকার করে না, কার্বন নিঃসরণ সীমানা চেনে না। তাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিকল্প নেই।”
ট্রাম্পের জলবায়ু নীতি নিয়ে সমালোচনা
তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে যেমন প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে গিয়েছিলেন, তেমনি তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেও আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করেছেন।
নবায়নযোগ্য শক্তির অগ্রগতি
বেয়ারবক জানান, গত বছর বিশ্বের নতুন বিদ্যুৎ স্থাপনার ৯০ শতাংশই নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর, যা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে প্রমাণ করে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানো এখন জরুরি।
COP30: ২০০ দেশের অংশগ্রহণ
অ্যামাজন অঞ্চলের বেলেমে ২০০টি দেশ অংশ নিচ্ছে COP30 সম্মেলনে, যেখানে আলোচনা হচ্ছে তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে সীমিত রাখা, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থসহায়তা নিয়ে।
বৃহৎ বিক্ষোভ এবং ‘পিপলস সামিট’
শনিবার সকালে বেলেম শহরে পরিবেশকর্মী, আদিবাসী জনগোষ্ঠীসহ হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে বৃহৎ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলনের সমান্তরালে বেলেমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘পিপলস সামিট’ যেখানে দেশি-বিদেশি শতাধিক সংগঠন একত্রিত হচ্ছে।
জার্মান পরিবেশ মন্ত্রীর সফর
সপ্তাহান্তে ব্রাজিলে পৌঁছাবেন জার্মান পরিবেশমন্ত্রী কারস্টেন শ্নাইডার। তিনি স্থানীয় ‘কিলোম্বোলা’ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক ও অ্যামাজনের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল পরিদর্শন করবেন।