জাতিসংঘ সম্মেলনে ফিলিস্তিন প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ আন্তর্জাতিক অবস্থান
নিউইয়র্ক, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অধিকাংশ দেশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা “একটি মৌলিক অধিকার, কোনো পুরস্কার নয়” এবং গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা জরুরি।
সৌদি আরব ও ফ্রান্সের যৌথ সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রথমবারের মতো ফ্রান্স আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। একই দিনে বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, ব্রিটেন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশও একই পদক্ষেপ নেয়। মোট ১৪২টি দেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে “নিউইয়র্ক ঘোষণা” সমর্থন করে, যা দুই-রাষ্ট্র সমাধানের মাধ্যমে ফিলিস্তিন সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের অঙ্গীকার করে।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান সম্মেলনে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বার্তা পড়ে শোনান। তিনি বলেন, “ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসন, গাজায় নৃশংসতা, পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে লঙ্ঘন—এসব প্রমাণ করছে যে কেবলমাত্র দুই-রাষ্ট্র সমাধানই টেকসই শান্তি নিশ্চিত করতে পারে।”
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, “শান্তির সময় এসেছে। ফ্রান্স প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন পাশাপাশি শান্তি ও নিরাপত্তায় বসবাস করবে।” তবে তিনি শর্ত দেন, ফ্রান্সের দূতাবাস ফিলিস্তিনে খোলার আগে অবশ্যই গাজায় যুদ্ধবিরতি ও সব জিম্মি মুক্ত করতে হবে।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ভিডিওবার্তায় সৌদি আরব, ফ্রান্স ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশকে ধন্যবাদ জানান। তিনি ঘোষণা করেন, যুদ্ধ শেষ হলে এক বছরের মধ্যে নির্বাচন হবে এবং তিন মাসের মধ্যে অস্থায়ী সংবিধান প্রণয়ন করা হবে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, ফিলিস্তিন একটি ঐক্যবদ্ধ, নিরস্ত্র রাষ্ট্র হবে যেখানে কেবল বৈধ নিরাপত্তা বাহিনী থাকবে।
আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতির ঢেউতে লন্ডনে ফিলিস্তিন মিশনের ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনি পতাকা উত্তোলন করা হয়। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এসব স্বীকৃতিকে “হামাসের জন্য পুরস্কার” আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ারি দেন যে, এর জবাব ইসরায়েল দেবে।
জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনে ফিলিস্তিন ইস্যুই প্রধান আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। প্রায় আট দশক ধরে ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর এতগুলো দেশের একযোগে স্বীকৃতি নতুন করে আশা জাগাচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক চাপ এবার কার্যকর শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রসর হতে পারে।