জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল লেবানন ও সিরিয়া সফরে: সংবেদনশীল পর্যায়ে কূটনৈতিক মিশন
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের রাষ্ট্রদূতরা মঙ্গলবার লেবানন ও সিরিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সফরে যাচ্ছেন। উভয় দেশেই বর্তমানে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে একটি সংবেদনশীল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলকে সিরিয়ার সঙ্গে “মজবুত সংলাপ” বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ ইসরাইলি সামরিক অভিযান সিরিয়ার ভিতরে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোমবার ফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন।
নিরাপত্তা পরিষদের সফর
এই সফরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতিসংঘে এস্টোনিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি সামুয়েল জেবোগার, যিনি এই মাসের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি। মার্কিন প্রতিনিধি মাইক ওল্টজ, ব্রিটিশ প্রতিনিধি বার্বারা উডওয়ার্ড, ফরাসি প্রতিনিধি জেরোম বোনাভঁ, রুশ প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেপিনজিয়া, চীনের হু ফু কং সহ অন্যান্য সদস্যরাও অংশ নিচ্ছেন।
নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই সফর সিরিয়ার জনগণের মধ্যে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে এবং দেশটিতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটাবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই মানুষ দেখুক যে জাতিসংঘ এখন সিরিয়ায় উপস্থিত।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
লেবানন ও সিরিয়া উভয় দেশেই উচ্চ পর্যায়ের জাতিসংঘ প্রতিনিধি দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে বেইরুত ও দামাস্কাসের মধ্যে যাতায়াতের পথে। এছাড়া জাতিসংঘের “ইউনিফিল” শান্তিরক্ষা মিশনের কার্যক্রম এলাকায় সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে।
এই সফর আসছে সিরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের শাসন পতনের এক বছরের আগে। সফরকালে প্রতিনিধি দল সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শর’হ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ শিবানি ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
গোলান উচ্চভূমিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনী “আনডুফ” এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়, তবে ইসরাইলি সামরিক অনুপ্রবেশ ও ১৯৭৪ সালের আলোচনার চুক্তি লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত নাজাহ রুশদির কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হতে পারে।
সিরিয়ায় জাতিসংঘের সাবেক বিশেষ দূত গিয়ার পেডারসেন গত সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেছেন, যিনি প্রায় সাত বছর ধরে সংঘাত সমাধানে ব্যর্থ হয়েছেন।
জাতিসংঘের পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টা
জাতিসংঘ সিরিয়ায় তার উপস্থিতি পুনর্ব্যবস্থাপন করতে চাইছে। সম্প্রতি নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আল-শর’হ ও অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী আনাস খাতাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এই পদক্ষেপ সিরিয়ার সরকারের ইতিবাচক ভূমিকা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেয়।
নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা সিরিয়ায় রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়া, সামাজিক সংহতি ও বিচারব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করবেন। মার্কিন প্রতিনিধি মাইক ওল্টজ জাতিসংঘের মাধ্যমে সিরিয়ার স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির অংশ।
লেবাননে বৈঠক
সিরিয়ার সফরের পর প্রতিনিধি দল লেবাননে ফিরে এসে জাতিসংঘের “ইউনিফিল” শান্তিরক্ষা মিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। “ইউনিফিল” ১৯৭৮ সাল থেকে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে শান্তি রক্ষায় কাজ করছে এবং ২০২৭ সালের শেষে তাদের মিশন শেষ হবে।
মার্কিন বিশেষ দূত মর্গ্যান ওর্টেগাস লেবাননের বিষয়ক আলোচনা নেতৃত্ব দেবেন।
এই সফর ইসরাইলের চলমান বিমান হামলার মধ্যে হচ্ছে, যা লেবাননের “হিজবুল্লাহ” গোষ্ঠী লক্ষ্য করে করা হচ্ছে, যদিও ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর অস্ত্রবিরতির চুক্তি হয়েছে।
লেবাননে সফরকালে প্রতিনিধি দল দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন, প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম, পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বরি, সেনা প্রধান রুডলফ হেইকেল, অস্ত্রবিরতি রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ছবি: সংগৃহীত