পশ্চিম তীর সংযুক্তির বিরোধিতায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের নতুন সিদ্ধান্তে উদ্বেগ আন্তর্জাতিক মহলে
ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার যে কোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, পশ্চিম তীরের স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে তা ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার মার্কিন লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হয়।
এদিকে, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পশ্চিম তীরের অধিকৃত অঞ্চলের কিছু অংশে নতুন প্রশাসনিক ও কার্যকরী ব্যবস্থা চালুর ইসরায়েলি সিদ্ধান্ত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এসব পদক্ষেপ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
এক বিবৃতিতে গুতেরেস জানান, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের চলমান উপস্থিতি শুধু অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে না, বরং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বেআইনিও বটে। তিনি ইসরায়েলকে এসব সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান এবং সব পক্ষকে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে শান্তির একমাত্র পথ—দুই রাষ্ট্র সমাধান—রক্ষা করার অনুরোধ করেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, দেশটির মন্ত্রিসভা পশ্চিম তীরে জমি নিবন্ধন ও মালিকানা সংক্রান্ত নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন অনুমোদন করেছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন বাড়িঘর ভাঙার সুযোগ তৈরি হবে এবং বসতি সম্প্রসারণ আরও জোরদার হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তগুলোর কড়া সমালোচনা করেছে একাধিক আরব ও মুসলিম দেশ। সৌদি আরব, জর্ডন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। তাঁরা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সম্প্রসারণমূলক ও অবৈধ নীতির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দেন।
জর্ডনের রাজধানী আম্মানে দেশটির বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয় ও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এক বৈঠকে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান।
রামাল্লায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি ইসরায়েলি সরকারের এই সিদ্ধান্তগুলোকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মতে, এসব পদক্ষেপ আসলে দখল, সংযুক্তি ও বাস্তুচ্যুতির পরিকল্পনারই অংশ।