রাষ্ট্রপুঞ্জে বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে আমেরিকা-ফ্রান্সের বিরোধিতা
রাষ্ট্রপুঞ্জে বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং তাদের আত্মঘাতী শাখা ‘মজিদ ব্রিগেড’-এর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যৌথ প্রস্তাব আনল পাকিস্তান ও চিন। তবে আমেরিকা, ফ্রান্স এবং ব্রিটেন সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করায় আপাতত কোনও বিধিনিষেধ আরোপ হয়নি।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, গত অগস্টেই মার্কিন প্রশাসন বিএলএ-কে বিদেশি জঙ্গি সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে এবং মজিদ ব্রিগেডকেও তালিকাভুক্ত করে। কিন্তু রাষ্ট্রপুঞ্জে প্রস্তাব ওঠার পর আমেরিকার দাবি, বিএলএ-র আল কায়দা বা আইএস-এর মতো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি ইফতিকার আহমেদ অভিযোগ করেন, বিএলএ এবং মজিদ ব্রিগেড আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “চিন ও পাকিস্তান একত্রে এই সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আর্জি জানাচ্ছে। আশা করি আন্তর্জাতিক মহল বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।”
রাষ্ট্রপুঞ্জ সনদের ১২৬৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যে কোনও সংগঠন যদি আল কায়দা, তালিবান বা আইএস-এর সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে তবে তাদের সদস্যরা আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নিষিদ্ধ হবেন, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে এবং অস্ত্রশস্ত্র জব্দ করা হবে।
বালোচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ চলছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে কোয়েটা-পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন দখল করে বিএলএ। প্রায় ৪০০ যাত্রীবাহী সেই ট্রেনে পাক সেনার সদস্যরাও ছিলেন। অভিযানে সেনা মুক্তি পায়, তবে নিহত হন ২১ জন সাধারণ মানুষ এবং চার জন সেনা। সেনা অভিযানে প্রাণ হারায় ৩৩ জন বিদ্রোহী।
চিন ইতিমধ্যেই বালোচিস্তানে বড় মাপের বিনিয়োগ করেছে। স্থানীয় বিদ্রোহীরা সেই উপস্থিতিকে স্বাগত জানাচ্ছে না। তাই এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ও চিনের যৌথ প্রস্তাব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।