গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র—এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি বলেন, ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের এক শীর্ষ নেতার মৃত্যুর ঘটনায় যুদ্ধবিরতির শর্ত ভাঙা হয়েছে কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হামাসের গাজা প্রধান এবং আলোচক দলের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হাইয়া দাবি করেছেন, সংগঠনের সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেডসের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা রায়েদ সাদের নিহত হওয়ার ঘটনায় গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তাঁর মতে, এই হত্যাকাণ্ড চুক্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে।
ইসরাইলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার গাজা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলবর্তী আল-রশিদ সড়কে একটি গাড়িতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় এবং গাড়িতে থাকা সবাই নিহত হন। ইসরাইল দাবি করেছে, নিহতদের মধ্যে রায়েদ সাদও ছিলেন।
এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও জানান, গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি দেশ এতে যুক্ত হবে। তাঁর বক্তব্য, প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সেনা পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে পৃথক আরেক প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির হামলার আগে দেওয়া তাঁর বক্তব্য সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনের জেরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি জানান, খুব শীঘ্রই এই মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, এই সংঘাতের অবসানে একটি চুক্তি আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক কাছাকাছি। বার্লিনে সাম্প্রতিক আলোচনার পর তাঁর প্রশাসন অগ্রগতির ইঙ্গিত পেয়েছে বলেও জানান তিনি।
চীন সম্পর্কিত বিষয়ে ট্রাম্প জানান, হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে দোষী সাব্যস্ত হওয়া গণতন্ত্রপন্থী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জিমি লাইয়ের মুক্তির অনুরোধ তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে জানিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তিনি এই মানবিক আবেদন করেছেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার হংকংয়ের শীর্ষ আদালত বিদেশি শক্তির সঙ্গে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জিমি লাইকে দোষী সাব্যস্ত করে। এই মামলাটি চীনের আরোপিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে শহরটির অন্যতম আলোচিত বিচারপ্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।